পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(స్క్రి भङ्ग५ङ्गछनबि्रो ইহাই ভাবিয়া পাই না, সেদিনের দিনান্তটা রাজলক্ষ্মীর কোথা দিয়া কেমন করিয়া অবসান হইবে। গ্রামে পৌছিলাম। নাম মামুদপুর। বৃদ্ধ যাদব চক্রবর্তী তাহারই উল্লেখ করিয়া সগৰ্বে কহিলেন, নাম শুনে চমকাবেন না মশাই, আমাদের চতুঃসীমানার মধ্যে মুসলমানের ছায়াটুকু পর্যন্ত মাড়াতে হয় না। যেদিকে তাকান ব্রাহ্মণ কায়স্থ আর সংজাত। অনাচরণীয় জাতের বসতি পর্যন্ত নেই। কি বল নরেন, আছে ? নরেন সানন্দে সায় দিয়া বারংবার মাথা নাড়িয়া কহিল, একটিও না, একটিও না। তেমন গাঁয়ে আমরা বাস করিনে । হইতে পারে সত্য, কিন্তু এত খুশি হইবারই বা কি আছে ভাবিয়া পাইলাম না। চক্রবর্তী-গৃহে বজ্রানদের সাক্ষাৎ মিলিল। ই তিনিই বটে। আমাকে দেখিয়া তার যেমন বিস্ময়, তেমনি আনন্দ । দাদা যে! হঠাৎ এখানে ? এই বলিয়া আনন্দ হাত তুলিয়া নমস্কার করিলেন । এই নরদেহধারী দেবতা স্তু সসম্মানে অভিবাদন করিতে দেখিয়া চক্রবর্তী বিগলিত হইয়া গেলেন । আশেপাশে আরও অনেকগুলি ভক্ত ছিলেন, তাহারাও উঠিয়া দাড়াইলেন। আমি যেই হই, সামান ব্যক্তি যে নয়, এ সম্বন্ধে কাহারও সংশয় রহিল না। আনন্দ কহিলেন, আপনাকে বড় রোগা দেখাচ্ছে দাদা ? উত্তর দিলেন চক্রবর্তী। আমার যে দিন-দুই আহার-নিদ্রা ছিল না, এবং বহু পুণ্যফলেই শুধু বঁচিযা আসিয়াছি ইহাই ব্যক্ত করিয়া কুলিদের মধ্যে মড়কের বিবরণ এমনি সবিস্তারে বর্ণনা করিলেন যে, আমার পর্যস্তু তাক লাগিয়া গেল । আনন্দ বিশেষ কোন ব্যাকুলতা প্রকাশ করিলেন না। ঈষৎ হাসিয়া, অপরের কান বঁাচাইয়া কহিলেন, এতটা দু’দিনের উপবাসে হয় না দাদা, একটু দীর্ঘকালের দবকার। কি হয়েছিল প জুর ঃ বলিলাম, আশ্চর্য নয়। ম্যালেরিয়া ত আছেই। চক্রবর্তী আতিথ্যের ক্রুটি করিলেন মা, খাওয়াটা আজ ভালরকমই হইল। আহারান্তে প্রস্থানের আযোজন কবিতে আনন্দ জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনি হঠাৎ কুলিদের মধ্যে জুটেছিলেন কি করে? বলিলাম, দৈবের চক্রাস্তুে। আনন্দ সহস্যে কহিলেন, চক্রান্তই বটে। রাগের মাথায় বাড়িতে বোধ হয় খববও দেননি । বলিলাম, না, কিন্তু সে রাগ করে নয়। দেওয়া বাহুল্য বলেই দিইনি। তা ছাড়া লোকই বা পেঙাম কোথায় ? আনন্দ বলিলেন, সে একটা কথা। কিন্তু আপনার ভাল-মন্দ দিদির কাছে বাংলা হয়ে উঠলো করে থেকে ? তিনি হয়ত ভয়ে ভাবনায় আধমরা হয়ে গেছেল। কথা বাড়াইয়া লাভ নাই—এ প্রশ্নের আর জবাব দিলাম না। আনন্দ স্থির করিলেন জেরায় আমাকে একেবারে জব্দ করিয়া দিয়াছেন। তাই স্নিগ্ধ-মৃদুহাস্যে ক্ষণকাল আত্মপ্রসাদ উপভোগ করিয়া কহিলেন, আপনার রথ প্রস্তুত, বোধ করি সন্ধ্যার পূর্বেই গিয়ে বাড়ি পৌছিতে পারবেন। আসুন, আপনাকে তুলে দিয়ে আসি। বলিলাম, কিন্তু বাড়ি যাবার পূর্বে কুলিদের একটু খবর নিয়ে যেতে হবে। আনন্দ বিস্ময় প্রকাশ করিয়া বলিলেন, তার মানে রাগ এখনো পড়েনি। কিন্তু আমি বলি, দৈবের ষড়যন্ত্রে দুর্ভোগ যা কপালে ছিল তা ফলেচে। আপনি ডাক্তারও নয়, সাধুবাবাও ময়, গৃহী লোক। এখন খবর নেবার যদি কিছু থাকে ত সে ভার আমাকে দিয়ে নিশ্চিত হয়ে বাড়ি যান। কিন্তু গিয়ে আমার নমস্কার জানিয়ে বলবেন, তার আনন্দ ভাল আছে। দ্বারে গরুর গাড়ি তৈরি ছিল। গৃহস্বামী চক্রবর্তী আসিয়া সনির্বদ্ধ অনুরোধ জানাইলেন, এদিকে আর যদি কখনো আসা হয় এ বাড়িতে যেন পদধূলি দিয়া যান। তাহার আন্তরিক আতিথ্যের জন্য সহস্র ধনবাদ দিলাম, কিন্তু দূর্লভ পদধূলির আশা দিতে পারিলাম না। বাজাদেশ আমাকে অচিরে