প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


స్క్రిధిa व्नंज्ञ५ब्रछमांबडणी আঁটা মস্ত একটি মর্মর প্রস্তর-ফলক। সোনার জল দিয়া ইংরাজী অক্ষরে আগাগোড়া খোদাই-করা সনতারিখ-সংবলিত শিলালিপি। জেলার যে সাহেব-ম্যাজিষ্ট্রেট দয়া করিয়া ইহার উদ্বোধনকার্য সম্পন্ন করিয়াছিলেন তাহার নাম-ধাম সর্বাগ্রে, নীচে প্রশস্তি-পাঠ। কে একজন রায়বাহাদুর তাহার রত্নগর্ভা মাতার স্মৃতিরক্ষার্থে জননী-জন্মভূমিতে এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন। আর শুধু মাতা-পুত্রই নয়, উধ্বতন তিনচারি পুরুষের বিবরণ। বোধ করি ছোটখাটো কুলকারিকা বলিলেও অতু্যক্তি হয় না। লোকটি যে রাজসরকারে রায়বাহাদুরির যোগ্য তাহাতে লেশমাত্র সন্দেহ নাই। কারণ টাকা নষ্ট করার দিক দিয়া ক্রটি ছিল না। ইট ও কাঠ এবং বিলাতের আমদানি লোহার কড়ি-বরগার বিল মিটাইয়া অবশিষ্ট যদি বা কিছু থাকিয়া থাকে সাহেব শিল্পীর হাতে বংশগৌরব লিখাইতেই তাহ নিঃশেষিত হইয়াছে। ডাক্তার ও রোগীর ঔষধ-পথ্যাদির ব্যাপারের ব্যবস্থা করিবার হয়ত টাকাও ছিল না, ফুরসতও ছিল না। প্রশ্ন করিলাম, রায়বাহাদুরের বাড়ি কোথায় ? সে কহিল, বেশি দূরে নয়, কাছেই। এখন গেলে দেখা হবে ? আজ্ঞে না, বাড়িতে তালাবন্ধ, তারা সব কলকাতায় থাকেন। জিজ্ঞাসা করিলাম, কবে আসেন জান ? লোকটি বিদেশী, সঠিক সংবাদ দিতে পারিল না, তবে কহিল যে, বছর-তিনেক পূর্বে একবাৰ আসিয়াছিলেন একথা সে ডাক্তারবাবুর মুখে শুনিয়াছে। সর্বত্র একই দশা, অতএব দুঃখ করিবাব বিশেষ কিছু ছিল না। এদিকে অপরিচিত স্থানে সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হইতেছিল, সুতরাং রায়বাহাদুরের কার্যকলাপ পর্যালোচনা করার চেয়ে জরুরি কাজ বাকি ছিল। লোকটিকে কিছু পয়সা দিয়া জানিয়া লইলাম যে, নিকটেই একঘর চক্রবর্তী ব্রাহ্মাণের বাটী। তাহারা অতিশয় দয়ালু, এবং রাত্রিটার মত আশ্রয় মিলিবেই। সে নিজেই রাজী হইয়া আমাকে সঙ্গে লইয়া চলিল, কহিল, তাহাকে ত মুদীর দোকালে যাইতেই হইবে, একটুখানি ঘুরপথ, কিন্তু তাহাতে কিছু আসে যায় না। চলিতে চলিতে, তাহার কথায়-বার্তায় বুঝিলাম, এই দয়ালু ব্রাহ্মণ পরিবার হইতে সে পথাপথ অনেক রাত্রিই গোপনে সংগ্ৰহ করিয়া খাইয়াছে। মিনিট-দশেক হটিয়া চক্রবর্তীর বহির্বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইলাম। আমার পথিপ্রদর্শক ডাক দিয়া কহিল, ঠাকুরমশাই ঘরে আছেন ? কোন সাড়া আসিল না। ভাবিয়াছিলাম কোন সম্পন্ন ব্রাহ্মণ-বাটীতে আতিথ্য লইতে চলিয়াছি, কিন্তু ঘরদ্ধারের শ্রী দেখিয়া মনটা দমিয়া গেল। ওদিকে সাড়া নাই, এদিকে আমার সঙ্গীর অধ্যবসায়ও অপরাজেয়। তাহা না হইলে এই গ্রাম ও হাসপাতালে বহুদিন পূর্বেই তাহার রুগ্ন-আন্ধা স্বগীয় হইয়া তবে ছাড়িত। সে ডাকের উপর ডাক দিতেই লাগিল । হঠাৎ জবাব আসিল, যা যা, আজ যা । যা বলচি । লোকটি কিছুমাত্র বিচলিত হইল না, প্রত্যুত্তরে কহিল, কে এসেচে বার হয়ে দেখুন না। কিন্তু বিচলিত হইয়া উঠিলাম আমি। যেন, চক্রবর্তীর পরমপূজ্য গুরুদেব গৃহ পবিত্র করিতে অকস্মাৎ আবির্ভূত হইয়াছি। নেপথ্যে কণ্ঠস্বর মুহুর্তে মোলায়েম হইয়া উঠিল—কে রে ভীম ? বলিতে বলিতে গৃহস্বামী দ্বারপথে দেখা দিলেন। পরনের বস্ত্রখানি মলিন এবং অতিশয় ক্ষুদ্র, অন্ধকারে তাহার বয়স অনুমান করিতে পারিলাম না, কিন্তু খুব বেশি বলিয়াও মনে হইল না। পুনশ্চ জিজ্ঞাসা করিলেন, কে রে ভীম ? বুঝিলাম, আমার সঙ্গীর নাম ভীম। ভীম বলিল, ভদ্রলোক, বামুন। পথ ভুলে হাসপাতালে গিয়ে হাজির। আমি বললাম, ভয় কি, চলুন না ঠাকুরমশায়ের বাড়িতে রেখে আসি, গুরু আপরে থাকবেন। বস্তুতঃ ভীম অতিশয়োক্তি করে নাই, চক্রবর্তী আমাকে পরম সমাদরে গ্রহণ করিলেন। স্বহস্তে মাদুর পতিয়া বসিতে দিলেন এবং তামাক ইচ্ছা করি কি না জানিয়া লইয়া ভিতরে গিয়া নিজেই তামাক সাজিয়া আনিলেন ।