প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৬৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


बैंकाछ-फूडीब्र अर्ब స్ట్రీa's বলিলেন, চাকরগুলো সব জুরে পড়ে রয়েচে–করি কি! শুনিয়া অত্যন্ত কুষ্ঠিত হইয়া পড়িলাম। ভাবিলাম, এক চক্রবর্তীর গৃহ ছাড়িয়া আর এক চক্রবর্তীর গৃহে আসিয়া পড়িলাম। কে জানে আতিথ্যটা এখানে কিরূপ দাড়াইবে। তথাপি হঁকটি হাতে পাইয় টানিবার উপক্রম করিয়াছি, সহসা অন্তরাল হইতে তীক্ষকষ্ঠের প্রশ্ন আসিল, হ্যা গা, কে মানুষটি এলো? অনুমান করিলাম, ইনিই গৃহিণী। জবাব দিতে চক্রবর্তীরই শুধু গলা কঁাপিল না, আমারও যেন হৎকম্প হইল। তিনি তাড়াতাড়ি বলিলেন, মস্ত লোক গো মস্ত লোক। অতিথি, ব্রাহ্মণ-নারায়ণ! পথ ভুলে এসে পড়েচেন-—শুধু রাত্রিটা—ভোর না হতেই আবার সকালেই চলে যাবেন। ভিতর হইতে জবাব আসিল, হাঁ সবাই আসে পথ ভুলে! মুখপোড়া আতিথের আর কামাই নেই। ঘরে না আছে একমুঠো চাল, না আছে একমুঠো ডাল-খেতে দেবে কি উনুনের পাশ ? আমার হাতের ইঁকা হাতেই রহিল । চক্রবর্তী কহিলেন, আহা, কি যে বল তুমি আমার ঘরে আবার চাল-ডালের অভাব। চল চল, ভেতরে চল, সব ঠিক করে দিচ্চি। চক্রবর্তীগৃহিণী ভিতরে যাইবার জন্য বাহিরে আসেন নাই। বলিলেন, কি ঠিক করে দেবে শুনি ? আছে ত পালি মুঠোখানেক চাল, ছেলেমেয়ে দুটোকে রাত্তিরের মত সেদ্ধ করে দেবো। বাছাদের উপুসী রেখে ওকে দেব গিলতে ? মনেও করো না। মা ধরিত্রি, দ্বিধা হও! না না করিয়া কি একটা বলিতে গেলাম, কিন্তু চক্রবর্তীর বিপুল ক্রোধে তাহা সস, গল। তিনি তুমি ছাড়িয়া তখন তুই ধরিলেন, এবং অতিথি-সৎকার লইয়া স্বামী-স্ত্রীতে যে আলাপ শুরু হইল তাহার ভাষাও যেমন, গভীরতাও তেমনি। আমি টাকা লইয়া বাহির হই নাই, পকেটে সামান্য যাহা কিছু ছিল তাহাও খরচ হইয়া গিয়াছিল। শুধু গলায় সোনার বোতাম ছিল, কিন্তু কে বা কাহার কথা শোনে। ব্যাকুল হইয়া একবার উঠিয়া দাড়াইবার চেষ্টা করিতে চক্রবর্তী সজোরে আমার হাত চাপিয়া ধরিয়া কহিলেন, অতিথি নারায়ণ। বিমুখ হয়ে গেলে গলায় দড়ি দেব। গৃহিণী কিছুমাত্র ভীত হইলেন না, তৎক্ষণাৎ চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্ট করিয়া কহিলেন, তা হলে ত বঁচি । ভিক্ষে-সিক্ষে কবে কাছাদের খাওয়াই । এদিকে আমার ত প্রায় হিতাহিত জ্ঞান লোপ পাইবার উপক্রম করিয়াছিল , হঠাৎ বলিয়া উঠিলাম, চক্রবর্তমশাই, সে নাহয় একদিন ভেবেচিত্তে ধীরে-সুস্থে করবেন—করাই ভাল-কিন্তু সম্প্রতি আমাকে হয় ছাডুন, না হয় একগাছা দড়ি দিন ঝুলে পড়ে মা-নার আতিথ্যের দায় থেকে মুক্ত হই । চক্রবর্তী অন্তঃপুব লক্ষা করিয়া হাকিয়া বলিলেন, আক্কেল হ’ল ? বলি শিখলি কিছু? পাস্ট জবাব আসিল, হা। মুহূর্তকয়েক পরে ভিতর হইতে শুধু একখানি হাত বাহির হইয়া, দুম করিয়া একটা পিতলের ঘড়া বসাইয়৷ দিয়া আদেশ হইল, যাও, শ্ৰীমত্তর দোকানে এটা রেখে চাল ডাল তেন নুন নিয়ে এসে গে। দেখো যেন মিনসে হাতে পেয়ে সব কেটে না নেয়। চক্রবর্তী খুশি হইয়া উঠিলেন। বলিলেন, আরে, না না, একি ছেলের হাতের নাডু ? চট করিয়া কাটা তুলিয়া লইয়া বার-কয়েক টান দিয়া কহিলেন, আগুনটা নিবে গেছে। গিয়ী, দাও দিকি কলকেটা পাশে একবার খেয়েই যাই । যাব আর আসব। এই বলিয়া তিনি কলিকাটা হাতে লইয়া অন্দরের দিকে বাড়াইয়া দিলেন। ব্যস, স্বামী-স্ত্রীতে সন্ধি হইয়া গেল। গৃহিণী তামাক সাজিয়া দিলেন, কর্তা প্ৰাণ ভরিয়া ধূম পান করিলেন। প্রসন্নচিত্তে কাটি আমার হাতে দিয়া ঘ, হাতে করিয়া বাহির হইয়া গেলেন। চাল আসিল, ডাল আসিল, তেল আসিল, নুন আসিল, যথাসময়ে রন্ধনশালায় আমার ডাক পড়িল। আহারে বিন্দুমাত্র রুচি ছিল না, তথাপি নিঃশব্দে গেলাম। কারণ, আপত্তি করা শুধু নিষ্ফল নয়, না বলিতে আমার আতঙ্ক হইল। এ জীবনে বহুবার বহুস্থানেই আমাকে অযাচিত আতিথা গ্রহণ করিতে হইয়াছে, সর্বত্রই সমাদৃত হইয়াছি বলিলে অসত্য বলা হইবে, কিন্তু এমন সংবর্ধনও কখনো