প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


♚कड-कृ®ीव्र ** &చి$ు BB B BBD DDSBDD DBB BBD BBB BB BBB DDD gBB BBBBB BBBB BB বারংবার কেবল ব্যর্থ হইয়া গিয়াছে। আপনাকে সহস্র ধিকার দিয়া নিজের দুর্বলতার কাছেই পরাজিত হইলাম, এই কথাটা মনে করিয়া অবশেষে যখন আত্মসমপণ করিলাম, তখন রতন আসিয়া আজ আমাকে এই খবরটা দিয়া গেল—রাজলক্ষ্মী জাদুমন্ত্র জানে! তাই বটে! অথচ, এই রতনকেই জেরা করিলে জানা যাইবে, সে নিজেও ইহা বিশ্বাস করে না। হঠাৎ দেখি মস্ত একটা পাথরের বাটিতে কি কতকগুলো লইয়া এই পথেই রাজলক্ষ্মী ব্যস্ত হইয়া নীচে চলিয়াছে। ডাকিয়া কহিলাম, শোন, সবাই বলে তুমি নাকি জাদুমন্ত্র জান ? সে থমকিয়া দাড়াইয়া দুই লু কুঞ্চিত করিয়া কহিল, কি জানি ? বলিলাম, জাদুমন্ত্ৰ! রাজলক্ষ্মী মুখ টিপিয়া একটু হাসিয়া কহিল, হী, জ্ঞানি। বলিয়া চলিয়া যাইতেছিল, হঠাৎ আমার গায়ের জামাটা ঠাওর করিয়া দেখিয়া উদ্বিগ্নকষ্ঠে প্রশ্ন করিল, ওটা কালকের সেই বাসি জামাটা না ? নিজের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া বলিলাম, হাঁ, সেইটাই বটে ; কিন্তু থাক, বেশ ফর্স আছে। রাজলক্ষ্মী কহিল, ফর্সার কথা নয়, পরিষ্কারের কথা বলছি। তার পরে একটুখানি হাসিয়া বলিল, বাইরের ওই দেখান ফর্সাটা নিয়েই চিরকাল গেলে । ওটা তাচ্ছিল্য করতেও আমি বলিনে, কিন্তু যেভেতরটা ঘামে-ঘামে নোংরা হয়ে ওঠে সেটা দেখতে শিখবে কবে ? বলিয়া সে রতনকে ডাক দিল । কেহই জুলাব দিল না। কারণ কীর এইপ্রকার উচ্চ মধুর আহ্বানেব সাড়া দেওয়া এ বাড়ির বিধি নয় ; বরঞ্চ মিনিট পাঁচ-ছয় গা-ঢাকা দিয়া থাকাই নিয়ম । রাজলক্ষ্ম ৩খন হাতের পাত্তটা নামাইয়া রাখিয়া পাশের ঘর হইতে একটা কাচ জামা আনিয়া আমার হাতে দিয়া কহিল, তোমার মন্ত্রী রতনকে বোলো, যতক্ষণ সে জাদুমন্ত্র না শিখচে ততক্ষণ যেন এই দরকারী কাজগুলো হাত দিয়েই করে। এই বলিয়া সে পাথরের বাটিটা তুলিয়া লইয়া নীচে চলিয়া গেল । জামাটা বদলাইতে গিয়া দেখিলাম তাহার ভিতর যথার্থই মলিন হইয়া গেছে। হইবার কথা, এবং আমিও যে আর কিছু প্রত্যাশা করিয়াছিলাম তাহাও নয়, কিন্তু আমার মনটা ছিল নাকি ভাবিবার দিকেই তাই অতি তুচ্ছ খোসলটাব অস্তর-বাহিরের বৈসাদৃশ্যই আমাকে আবার নূতন আঘাত দিল। রাঞ্জলক্ষ্মীর গুচিবায়ুগ্ৰস্ততা অনেক সময়েই আমাদের কাছে নিরর্থক, পীড়াদায়ক, এমন কি অত্যাচার বলিয়াও ঠেকিয়াছে, এবং এখনই যে তাহার সমস্তটাই এক মূহুর্তে মন হইতে ধুইয়া মুছিয়া গল, তাহাও সত্য নয়, কিন্তু এই শেষ শ্লেষটুকুর : যে বস্তুটা আমি এতদিন মন দিয়া দেখি নাই ৩:হাই দেখিতে পাইলাম। যেখানে এই অদ্ভুত মানুষটির ব্যক্ত ও অব্য৩ জীবনের ধারা দুটা একাত্ত প্রতিকূলে বহিয়া চলিয়াছে, ঠিক সেই স্থানটাতেই আজ গিয়া আমার চক্ষু পড়িল। একদিন অত্যন্ত আশ্চর্য হইয়া ভাবিয়াছিলাম, শৈশবে রাজলক্ষ্মী যাহাকে ভালবাসিয়াছিল, তাহাকেই পিয়ারী তাহার উন্মত্ত যৌবনের কোন অতৃপ্ত লালসার পঙ্ক হইতে এমন করিয়া অতি সহজে সহস্ৰ দল-বিকশিত পদ্মের মত চক্ষের নিমেষে বাহির করিয়া দিল । আজ মনে হইল সে ত পিয়ারী নয়—সে রাজলক্ষ্মাই বটে। রাজলক্ষ্মী ও পিয়ারী এই দুটি নামের মধ্যে যে তাহার নারী-জীবনের কত বড় ইঙ্গিত গোপন ছিল, তাহা দেখিয়াও দেখি নাই বলিয়াই মাঝে মাঝে সংশয়ে ভাবিয়াছি, একের মধ্যে আর একজন এতকাল কেমন করিয়া বাঁচিয়া ছিল! কিন্তু মানুষ যে এমনিই! তাই ত সে মানুষ ! পিয়ারীর সমগ্র ইতিহাস আমি জানিও না. জানিতেও ইচ্ছা কার না। রাজলক্ষ্মীরই যে, সমস্ত ইতিবৃত্ত জানি তাও নয় ; শুধু এইটুকুই জানি, দ’জনের মর্মে ও কর্মে চিশন কোন মিল কোন সামঞ্জস্যই ছিল না, চিরদিনই উভয়ে পরস্পরের ৬ণ্টা লোতে বহিয়া গেছে। তাই একের নিভূত সবসীতে যখন শুদ্ধ সুন্দর প্রেমের কমল ধীরে ধীরে অনুক্ষণ দলের পর দল মেলিয়াছে তখন অপরের দুৰ্দাত্ত জীবনের ঘূর্ণিবায়ু সেখানে ব্যাঘাত করিবে কি, প্রবেশের পথই পায় নাই। তাই ত তাহার একটি পাপড়িও খসে নাই, এতটুকু ধূলাবালিও উড়িয়া গিয়া আজও তাহাকে স্পর্শ করিতে পারে নাই। শীতের সন্ধ্যা অচিরে গাঢ় হইয়া আসিল, আমি কিন্তু সেইখানে বসিয়া ভাবিতেই লাগিলাম। মনে