প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


*Qషి भन्नं नानावर्णैौ। ভাগ্যে জুটে নাই ; কিন্তু শিক্ষার তখনও বাকি ছিল। গিয়া দেখিলাম, উনুন জ্বলিতেছে, এবং অল্পের পরিবর্তে কলাপাতায় চাল ডাল আলু ও একটা পিতলের ছঁাড়ি। চক্রবর্তী উৎসাহভরে কহিলেন, দিন হাড়িটা চড়িয়ে, চটপট হয়ে যাবে। খাড়ি-মুসুরের খিচুড়ি, আলুভাতে, তোফা লাগবে খেতে। ঘি আছে, গরম গরম— চক্রবর্তীর রসনা সরস হুইয়া উঠিল কিন্তু আমার কাছে ব্যাপারটা আরও জটিল হইয়া উঠিল। কিন্তু পাছে আমার কোন কথায় বা কাজে আবার একটা প্রলয়-কাগু বাধিয়া যায় এই ভয়ে তাহার নির্দেশমত হাড়ি চড়াইয়া দিলাম, চক্রবর্তীগৃহিণী আড়ালে ছিলেন, স্ত্রীলোকের চক্ষে আমার অপটু হস্ত গোপন রছিল না, এবার তিনি আমাকেই উদ্দেশ করিয়া কথা কছিলেন। তাহার আর যা দোষই থাক, সঙ্কোচ বা চক্ষুলজ্জা বলিয়া যে শব্দগুলা অভিধানে আছে তাহাদের অতিবাহুল্য দোষ যে ইহার ছিল না একথা বোধ করি অতি বড় নিন্দুকেও স্বীকার না করিয়া পরিবে না। তিনি কছিলেন, তুমি ত বাছা রান্নার কিছুই জান না। আমি তৎক্ষণাৎ মানিয়া লইয়া বলিলাম, আজ্ঞে মা । তিনি বলিলেন, কর্তা বলছিলেন বিদেশী লোক, কে বা জানবে, কে বা শুনবে। আমি বললাম, তা হতে পারে না। একটা রাত্তিরের জন্যে একমুঠো ভাত দিয়ে আমি মানুষের জাত মারতে পারব না। আমরা বাবা অগ্ৰদানী বামুন। আমার যে আপত্তি নাই, এবং ইহাপেক্ষাও গুরুতর পাপ ইতিপূর্বে করিয়াছি—একথা বলিতেও কিন্তু আমার সাহস হইল না, পাছে স্বীকার করিলেও কোন বিভ্ৰাট ঘটে। মনের মধ্যে শুধু একটিমাত্র চিন্তা ছিল কেমন করিয়া রাত্রি কাটিবে এবং এই বাড়ির নাগপাশ হইতে অব্যাহতি লাভ করিব। সুতরাং নির্দেশমত খিচুড়িও রাধিলাম, এবং পিণ্ড পাকাইয়া গরম ঘি দিয়া তোফা গিলিবার চেষ্টাও করিলাম। এ অসাধ্য যে কি করিয়া সম্পন্ন করিলাম আজও বিদিত নই, কেবলই মনে হইতে লাগিল চাল-ডালের তোফা পিণ্ড পেটের মধ্যে গিয়া পাথরের পিণ্ড পাকাইতেছে । অধ্যবসায়ে অনেক কিছুই হয়, কিন্তু তাহারও সীমা আছে। হাতমুখ ধুইবারও অবসর মিলিল না, সমস্ত বাহির হইয়া গেল। ভয়ে শীর্ণ হইয়া উঠিলাম, কারণ এগুলো যে আমাকেই পরিষ্কার করিতে হইবে তাহাতে সন্দেহ নাই ; কিন্তু সে শক্তি আব ছিল না। চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হইয়া উঠিল, কোনমতে বলিয়া ফেলিলাম, কোথাও আমাকে একটু শোবার জায়গা দিন, মিনিট-পাঁচেক সামলে নিয়েই আমি সমস্ত পরিষ্কার করে দেব। ভাবিয়ছিলাম প্রত্যুত্তরে কি যে শুনিব জানি না, কিন্তু আশ্চর্য এই চক্রবর্তীগৃহিণীর ভয়ানক কণ্ঠস্বর অকস্মাৎ কোমল হইয়া উঠিল। এতক্ষণে তিনি অন্ধকার হইতে আমার সম্মুখে আসিলেন। বলিলেন, তুমি কেন বাবা পরিদ্ধার করতে যাবে, আমিই সব সাফ কবে ফেলচি। বাইরের বিছানাটা এখনও করে উঠতে পারিনি, ততক্ষশ এসে তুমি আমার ঘরে গিয়ে শোলে । না বলিবার সামর্থ্যও নাই, নীরবে অনুসরণ করিয়া তাঁহারই শতছিন্ন শয্যায় আসিয়া চোখ বুজিয়ী শুইয়া পড়িলাম। অনেক বেলায় যখন ঘুম ভাঙ্গিল, তখন মাথা তুলিবারও শক্তি ছিল না, এমনি জ্বর। সহজে চোখ দিয়া আমার জল পড়ে না, কিন্তু এত বড় অপরাধের যে এখন কেমন করিয়া কি জবাবদিহি করিব এই কথা ভাবিয়া নিছক ও নিরবচ্ছিন্ন আতঙ্কেই আমার দুই চক্ষু অক্ষ পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল। মনে হইল বহুবার নিরুদেশ যাত্রাতেই বাহির হইয়াছি, কিন্তু এতখানি বিড়ম্বন জগদীশ্বর আর কখনও আপুষ্টে লিখেন নাই। আর একবার প্রাণপণে উঠিয়া বসিবার প্রয়াস করিলাম, কিন্তু কোনমতেই মাথা সোঞ্জা করিতে না পারিশ্ন চোখ বুজিয়া শুইয়া পড়িলাম । আজ চক্রবর্তীগৃহিণীর সহিত মুখোমুখি আলাপ হইল। বোধ হয় অত্যন্ত দুঃখের মধ্যে দিয়াই নীরবে সত্যকার গভীর পরিচয়টুকু লাভ করা যায়। তাহাকে চিনিয়া লইবার এমন কষ্টিপাথরও আর নাই, DBBBB BB BBB BB BB BBB BBBB BB BB BBB BBS BB BBBB BB বলিলেন, ঘুম ভেঙ্গেড়ে বাবা ? চাহিয়া দেখিলাম। তাহার বয়স বোধ হয় চল্লিশের কাছাকাছি—কিছু বেশি হইতেও পারে। রঙটি