প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৭২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


$68 अंग्र६स्रष्ठनावी কাঠকুটো কেউ কেটে দিলে না, বাপ হয়ে গর্ত খুঁড়ে বাছাকে পুতে রেখে ইনি ঘরে ফিরে এলেন। বলিতে বলিতে তাহার পুরাতন শোক একেবারে নূতন করিয়া দেখা দিল। চোখ মুছিতে মুছিতে যাহা বলিতে লাগিলেন তাহার মোট অভিযোগ এই যে, তাহদের পূর্বপুরুষের কোনকালে কে শ্রাদ্ধের দান গ্রহণ করিয়াছিলেন, সেই ত অপরাধ? অথচ, শ্ৰাদ্ধ হিন্দুর অবশ্য কর্তব্য এবং কেহ-লা-কেহ দান গ্রহণ না করিলে সে শ্ৰাদ্ধ অসিদ্ধ ও নিষ্ফল হইয়া যায়। তবে দোষটা কোথায় ? আর দোষই যদি থাকে ত মানুষকে প্রলুব্ধ করিয়া সে কাজে প্রবৃত্ত করান কিসের জন্য? এ সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়াও যেমন কঠিন, পূর্ব-পিতামহগণের কোন দুস্কৃতির শাস্তিস্বরূপ তাহাদের বংশধরগণ এরূপ বিড়ম্বনা ভোগ করিতেছেন তাহা এতকাল পরে আবিষ্কার করাও তেমনি দুঃসাধ্য। শ্রাদ্ধের দান লওয়া ভাল কি মন্দ জানি না। মন্দ হইলেও একথা সত্য, যে, ব্যক্তিগতভাবে এ কাজ তাহারা করেন না, অতএব নিরপরাধ। অথচ প্রতিবেশী হইয়া আর একজন প্রতিবেশীর জীবনযাত্রার পথ বিনা দোষে মানুষে এতখানি দুর্গম ও দুঃখময় করিয়া দিতে পারে, এমন হৃদয়হীন নির্দয় ববং তার উদাহরণ জগতে বোধ করি এক হিন্দু সমাজ ব্যতীত আর কোথাও নাই। তিনি পুনশ্চ কহিলেন, এ গ্রামে লোক বেশি নেই, জুর আর ওলাউঠায় অর্ধেক মরে গেছে। এখন আছে শুধু ব্রাহ্মণ, কায়স্থ আর রাজপুত । আমাদের যে কোন উপায় নেই বাবা, নইলে ইচ্ছে হয়, কোন মুসলমানের গ্রামে গিয়ে বাস করি। বলিলাম, কিন্তু সেখানে ত জাত যেতে পারে। চক্রবর্তীগৃহিণী এ প্রশ্নের ঠিক জবাব দিলেন না, কহিলেন, আমার সম্পর্কে একজন খুড়শ্বশুর আছেন, তিনি দুমকায় চাকরি করতে গিয়ে খ্ৰীষ্টান হয়েচেন । তার ত আর কোন কষ্টই নেই। চুপ করিয়া রহিলাম। হিন্দুধর্ম ত্যাগ করিয়া কেহু ধর্মাত্তর গ্রহণে মনে মনে উৎসুক হইয়া উঠিয়াছে শুনিলে ক্লেশবোধ হয়, কিন্তু সাৰনাই বা দিব কি বলিয়া ? এতদিন জ্ঞানিতাম অস্পৃশ্য, নীচ জাতি যাহারা আছে তাহারাই শুধু হিন্দু সমাজের মধ্যে নির্যাতন ভোগ করে, কিন্তু আজ জানিলাম কেহই বাদ যায় না। অর্থহীন অবিবেচনায় পরস্পরের জীবন দুর্ভর করিয়া তোলাই যেন এ সমাজের মজ্জাগত সংস্কার। পরে অনেককেই জিজ্ঞাসা করিয়াছি, অনেকেই স্বীকার করিয়া বলিয়াছেন, ইহা অন্যায়, ইহা গৰ্হিত, তথাপি নিরাকরণেরও কোন পন্থাই তাহারা নির্দেশ করিতে পারেন না। এই অন্যায়েবই মধ৷ দিয়া তাহারা জন্ম হইতে মৃত্যু পর্যন্ত চলিতে সম্মত আছেন, কিন্তু প্রতিকারের প্রবৃত্তি বা সাহস কোনটাই তাহাদের নাই। জানিয়া বুঝিয়াও অবিচারের প্রতিবিধান করিবার শক্তি যাহামেল এমন কবিয়া তিরোহিত হইয়াছে, সে জাতি যে দীর্ঘকাল বাঁচিৰে কি করিয়া ভাবিয়া পাওয়া শক্ত । দিন-তিনেক পরে সুস্থ হইয়া একদিন সকালে যাইবার জন্য প্রস্তুত হইয়া বলিলাম, মা, আঙ্ক আমাকে বিদায় দিন। চক্রবর্তীগৃহিণীর দুই চক্ষু জলে ভাসিয়া গেল ; বলিলেন, দুঃখীর ধরে অনেক দুঃখ পেলে বাবা, তোমাকে কটুকথাও কম বলিনি। এ কথার উত্তর খুঁজিয়া পাইলাম না। না না, সে কিছুই না—আমি মহাসুখে ছিলাম, আমার কৃতজ্ঞতা—ইত্যাদি মামুলি ভদ্র বাক্য উচ্চারণ করিতেও আমার লজ্জা বোধ হইল। বঞ্জানন্দের কথা মনে পড়িল। সে একদিন বলিয়াছিল, ঘর ছাড়িয়া আসিলে কি হইবে। এই বাঙ্গলাদেশের গৃহে গৃহে মা বোন, সাধ্য কি তাহদের স্নেহের আকর্ষণ এড়াইয়া যাই। কথাটা কত বড়ই মা সত্য । নিরতিশয় দরিদ্র্য ও নির্বোধ স্বামীর অবিবেচনার আতিশয্য এই গৃহস্থঘরের গৃহিণীকে প্রায় পাগল করিয়া দিয়াছে, কিন্তু যে মূহূর্তেই তিনি অনুভব করিলেন আমি পীড়িত, আমি নিরুপায়-জার উদ্বোর ভাবিবার কিছু রলি না। মাতৃত্বের সীমাহীন স্নেহে আমার রোগ ও পরগৃহবাসের সমস্তু দুঃখ যেন দুই হাত দিয়া মুছিয়া লইলেন। চক্রবর্তী চেষ্টা করিয়া একখানি গো-যান সংগ্ৰহ করিয়া আনিলেন, গৃহিণীর ভারি ইচ্ছা ছিল আমি স্নানাহার করিয়া যাই, কিন্তু রৌদ্র বাড়িবার আশঙ্কায় পীড়াপীড়ি করিলেন না। শুধু যাত্রাকালে శా ఈ దాకా కళాశాశశా కణజా • যেয়ো !