পাতা:শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব).djvu/১১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
শ্রীকান্ত
১০৮
 

জন্য? আমার থাকা-না-থাকায় ইহার কি? তখন কথায় কথায় বলিয়াছিল, সংসারে লাভ-ক্ষতিই কি সমস্ত? ভালবাসাটাসা কিছু নাই? আমি যাহাকে কখনো চোখেও দেখি নাই, তাহার মুখের এই কথাটা মনে করিয়া আমার হাসি পাইল! কিন্তু সমস্ত কথাবার্ত্তা ছাপাইয়া তাহার শেষ বিদ্রূপটাও আমাকে যেন অবিশ্রান্ত মর্ম্মান্তিক করিয়া বিঁধিতে লাগিল।

 সন্ধ্যার সময় শিকারীর দল ফিরিয়া আসিল। চাকরের মুখে শুনিলাম, আটটা ঘুঘুপাখী মারিয়া আনা হইয়াছে। কুমার ডাকিয়া পাঠাইলেন, অসুস্থতার ছুতা করিয়া বিছানায় পড়িয়াই রহিলাম, এবং এইভাবেই অনেক রাত্রি পর্য্যন্ত পিয়ারীর গান এবং মাতালের বাহবা শুনিতে পাইলাম।

 তার পরের তিন-চারিদিন প্রায় একভাবেই কাটিয়া গেল। ‘প্রায়’ বলিলাম—কারণ এক শিকার করা ছাড়া আর সমস্তই একপ্রকার। পিয়ারীর অভিশাপ ফলিল না কি, প্রাণিহত্যার প্রতি আর কাহারো কোন উৎসাহই দেখিলাম না। কেহ তাঁবুর বাহির হইতেই যেন চাহে না। অথচ আমাকেও ছাড়িয়া দেয় না। আমার পলাইবার আর যে কোন বিশেষ কারণ ছিল তাহা নয়। কিন্তু এই বাইজীর প্রতি আমার কি যে ঘোর বিতৃষ্ণা জন্মিয়া গেল; সে হাজির হইলেই, আমাকে কিসে যেন মারিতে থাকিত, উঠিয়া গিয়া স্বস্তি পাইতাম। উঠিতে না পারিলে, অন্ততঃ আর কোনদিকে মুখ ফিরাইয়া, কাহারও সহিত কথাবার্ত্তা কহিয়া, অন্যমনস্ক হইবার চেষ্টা করিতাম। অথচ সে প্রতি-মুহূর্ত্তেই আমার সহিত চোখাচোখি করিবার কৌশল করিত, তাহাও টের পাইতাম। প্রথম দুই-একদিন সে আমাকে লক্ষ্য করিয়াই পরিহাসের চেষ্টা করিয়া ছিল; কিন্তু আমার ভাব দেখিয়া সেও একেবারে নির্ব্বাক হইয়া গেল।

 সেদিন ছিল শনিবার। আমি আর কোনমতেই থাকিতে পারি না।