প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব).djvu/১১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
শ্রীকান্ত
১১৬
 

মৃদুস্বরে কহিল, বড় দরকার বাবু, এখনি একবার পায়ের ধূলো দিতে হবে। নইলে বাইজীই আস্‌বেন বললেন।—কি সর্ব্বনাশ! এই তাঁবুতে এত রাত্রে, এত লোকের সুমুখে! বলিলাম, তুমি বুঝিয়ে বল গে রতন, আজ নয়, কাল সকালেই দেখা হবে। আজ আমি কোনমতেই যেতে পার্‌ব না।

 রতন কহিল, তা হ’লে তিনিই আস্‌বেন। আমি এই পাঁচ বছর দেখে আস্‌চি বাবু, বাইজীর কোনদিন এতটুকু কথার কখনো নড়-চড় হয় না। আপনি না গেলে তিনি নিশ্চয়ই আসবেন।

 এই অন্যায় অসঙ্গত জিদ্ দেখিয়া পায়ের নখ হইতে মাথার চুল পর্য্যন্ত জ্বলিয়া গেল। বলিলাম, আচ্ছা দাঁড়াও, আমি আস্‌চি। তাঁবুর ভিতরে ঢুকিয়া দেখিলাম, বারুণীর কৃপায় জাগ্রত আর কেহ নাই। পুরুষোত্তম গভীর নিদ্রায় মগ্ন। চাকরদের তাঁবুতে দুই-চারি জন জাগিয়া আছে মাত্র। তাড়াতাড়ি বুট্‌টা পরিয়া লইয়া একটা কোট গায়ে দিয়া ফেলিলাম। রাইফেল ঠিক করাই ছিল। হাতে লইয়া রতনের সঙ্গে সঙ্গে বাইজীর তাঁবুতে গিয়া প্রবেশ করিলাম। পিয়ারী সুমুখেই দাঁড়াইয়া ছিল। আমার আপাদমস্তক বার বার নিরীক্ষণ করিয়া, কিছুমাত্র ভূমিকা না করিয়াই, ক্রুদ্ধস্বরে বলিয়া উঠিল, শ্মশানে-টশানে তোমার কোনমতেই যাওয়া হবে না—কোন মতেই না!

 ভয়ানক আশ্চর্য হইয়া গেলাম—কেন?

 কেন আবার কি? ভূত প্রেত কি নেই যে, এই শনিবারের অমাবস্যায় তুমি যাবে শ্মশানে? প্রাণ নিয়ে কি তা হ’লে আর ফিরে আস্‌তে হবে! বলিয়াই পিয়ারী অকস্মাৎ ঝর্ ঝর্‌ করিয়া কাঁদিয়া ফেলিল। আমি বিহ্বলের মত নিঃশব্দে চাহিয়া দাঁড়াইয়া রহিলাম। কি করিব, কি জবাব দিব, ভাবিয়াই পাইলাম না। ভাবিয়া না পাওয়ার আর আশ্চর্য্য কি?