পাতা:শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব).djvu/১২৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২৩
শ্রীকান্ত
 

ব’লে যত অপমানই কর না কেন, রাজলক্ষ্মী তোমাকে যে ফেলে যেতে পার‌্‌বে না—এ কি আর তুমি মনে মনে বোঝো না? কিন্তু ফেলে যেতে পার্‌লেই ভালো হ’তো। তোমাদের একটা শিক্ষা হ’তো। কিন্তু কি বিশ্রী এই মেয়েমানুষ জাতটা; একবার যদি ভালোবেসেচে, ত মরেচে।

 আমি বলিলাম, পিয়ারী, ভালো সন্ন্যাসীতেও ভিক্ষা পায় না, কেন জানো?

 পিয়ারী বলিল, জানি। কিন্তু তোমার এ খোঁচায় এত ধার নেই যে, আমাকে বেঁধো। এ আমার ঈশ্বর দত্ত ধন। যখন সংসারের ভাল মন্দ জ্ঞান পর্য্যন্ত হয়নি, তখনকার, আজকের নয়। আমি নরম হইয়া বলিলাম, বেশ কথা। আশা করি, আমার আজ একটা কিছু হবে। হলে তোমার ঈশ্বর দত্ত ধনের হাতে হাতে একটা যাচাই হয়ে যাবে।

 পিয়ারী কহিল, দুর্গা! দুর্গা! ছিঃ! অমন কথা ব’লো না। ভালোয় ভালোয় ফিরে এসো—এ সত্যি আর যাচাই ক’রে কাজ নেই। আমার কি সেই কপাল যে, নিজের হাতে নেড়ে-চেড়ে সেবা ক’রে, দুঃসময়ে তোমাকে সুস্থ, সবল ক’রে তুল্‌ব! তা হ’লে ত জান্‌তুম, এ জন্মের একটা কাজ ক’রে নিলুম। বলিয়া সে যে মুখ ফিরাইয়া অশ্রু গোপন করিল, তাহা হারিকেনের ক্ষীণ আলোতেও টের পাইলাম।

 আচ্ছা, ভগবান তোমার এ সাধ হয়ত একদিন পূর্ণ ক’রে দেবেন, বলিয়া আমি আর দেরি না করিয়া, তাঁবুর বাহিরে আসিয়া পড়িলাম। তামাসা করিতে গিয়া যে মুখ দিয়া একটা প্রচণ্ড সত্য বাহির হইয়া গেল, সে কথা তখন আর কে ভাবিয়াছিল?

 তাঁবুর ভিতর হইতে অশ্রু-বিকৃত কণ্ঠের, দুর্গা! দুর্গা! নামের সকাতর ডাক কানে আসিয়া পৌঁছিল! আমি দ্রুতপদে শ্মশানের পথে প্রস্থান করিলাম।