পাতা:শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব).djvu/১৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
শ্রীকান্ত
১৪৮
 

হঠাৎ এই অন্ধকার রাত্রিতে এরূপ স্থানে আমাকে একাকী ভূতের মত দাঁড়াইয়া থাকিতে দেখিলে, আর কিছু না করুক, একটা বিষম হৈ হৈ রৈ রৈ চীৎকার তুলিয়া দিবে, তাহাতে সংশয় নাই।

 ফিরিয়া আসিয়া পূর্ব্বস্থানে দাঁড়াইলাম, এবং অনতিকাল পরেই ছই-দেওয়া দুইখানি গো শকট পাঁচ-ছয়জনের প্রহরায় সম্মুখে আসিয়া উপস্থিত হইল। একবার মনে হইল ইহাদের অগ্রগামী লোক দুটা আমার দিকে চাহিয়াই ক্ষণকালের জন্য স্থির হইয়া দাঁড়াইয়া অতি মৃদুকণ্ঠে কি যেন বলাবলি করিয়াই পুনরায় অগ্রসর হইয়া গেল; এবং অনতিকাল মধ্যেই সমস্ত দলবল বাঁধের একটা ঝাঁকড়া গাছের অন্তরালে অদৃশ্য হইয়া গেল। রাত্রি আর বেশি বাকি নাই অনুভব করিয়া ফিরিবার উপক্রম করিতেছি, এম্‌নি সময়ে সেই বৃক্ষান্তরাল হইতে সু-উচ্চ কণ্ঠের ডাক কানে গেল, শ্রীকান্তবাবু―

 সাড়া দিলাম, কে রে রতন?

 আজ্ঞে, হাঁ বাবু, আমি। একটু এগিয়ে আসুন।

 দ্রুতপদে বাঁধের উপরে উঠিয়া ডাকিলাম, রতন, তোরা কি বাড়ী যাচ্ছিস্?

 রতন উত্তর দিল, হাঁ বাবু বাড়ী যাচ্চি—মা গাড়ীতে আছেন।

 অদূরে উপস্থিত হইতেই, পিয়ারী পর্দ্দার বাহিরে মুখ বাড়াইয়া কহিল, এ যে তুমি ছাড়া আর কেউ নয়, তা আমি দারোয়ানের কথা শুনেই বুঝতে পেরেচি। গাড়ীতে উঠে এস কথা আছে।

 আমি সন্নিকটে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, কি কথা?

 উঠে এসো বল্‌চি।

 না, তা পার্‌ব না, সময় নেই! ভোরের আগেই আমাকে তাঁবুতে পৌঁছুতে হবে।