প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব).djvu/১৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
শ্রীকান্ত
১৫০
 

উঠিল। কিন্তু সে একটা কথাও কহিল না। পর্দ্দা তোলা ছিল, পিছনে চাহিয়া দেখিলাম আকাশ ফর্সা হইয়া গেছে। বলিলাম, এইবার আমি যাই।

 পিয়ারী স্বপ্নাবিষ্টের মত কহিল, না।

 না কি রকম? এমনভাবে চ’লে যাবার অর্থ কি হবে জান?

 জানি—সব জানি। কিন্তু এরা ত তোমার অভিভাবক নয় যে, মানের দায়ে প্রাণ দিতে হবে? বলিয়াই সে আমার হাত ছাড়িয়া দিয়া পা ধরিয়া ফেলিয়া রুদ্ধ-স্বরে বলিয়া উঠিল, কান্তদা, সেখানে ফিরে গেলে আর তুমি বাঁচ্‌বে না। তোমাকে আমার সঙ্গে যেতে হবে না, কিন্তু সেখানেও আর ফিরে যেতে দেব না। তোমার টিকিট্ কিনে দিচ্ছি, তুমি বাড়ী চলে যাও—কিংবা যেখানে খুসি যাও, কিন্তু ওখানে আর এক দণ্ডও নয়।

 আমি বলিলাম, আমার কাপড়-চোপড় রয়েছে যে!

 পিয়ারী কহিল, থাক্ পড়ে। তাদের ইচ্ছা হয় তোমাকে পাঠিয়ে দেবে, না হয় থাক্‌গে। তার দাম বেশি নয়।

 আমি বলিলাম, তার দাম বেশি নয় সত্য; কিন্তু যে মিথ্যা কুৎসার রটনা হবে, তার দাম ত কম নয়!

 পিয়ারী আমার পা ছাড়িয়া দিয়া চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। গাড়ী এই সময় মোড় ফিরিতেই পিছনটা আমার সম্মুখে আসিয়া পড়িল। হঠাৎ মনে হইল, সম্মুখের ওই পূর্ব্ব-আকাশটার সঙ্গে এই পতিতার মুখের কি যেন একটা নিগূঢ় সাদৃশ্য রহিয়াছে। উভয়ের মধ্য দিয়াই যেন একটা বিরাট অগ্নিপিণ্ড অন্ধকার ভেদ করিয়া আসিতেছে—তাহারই আভাস দেখা দিয়াছে। কহিলাম, চুপ করে রইলে যে?

 পিয়ারী একটুখানি ম্লান হাসি হাসিয়া বলিল, কি জানো কান্তদা, যে