প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব).djvu/১৭৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭১
শ্রীকান্ত
 

কাছ থেকেই ও পাটনা কলেজে পড়ে। আজ আর কথা কোয়ো না, ঘুমোও—কাল সব কথা বল্‌ব। বলিয়া সে আমার মুখের উপর হাত চাপা দিয়া আমার মুখ বন্ধ করিয়া দিল।

 আমি হাত বাড়াইয়া রাজলক্ষ্মীর ডান হাতখানি মুঠার মধ্যে লইয়া পাশ ফিরিয়া শুইলাম।


১২

 যাহাতে অচৈতন্য শয্যাগত হইয়া পড়িয়াছিলাম, তাহা বসন্ত নয়, অন্য জ্বর। ডাক্তারি-শাস্ত্রে নিশ্চয়ই তাহার একটা-কিছু গালভরা শক্ত নাম ছিল, কিন্তু আমি তাহা অবগত নই। খবর পাইয়া পিয়ারী তাহার ছেলেকে লইয়া জন-দুই ভৃত্য এবং দাসী লইয়া আসিয়া উপস্থিত হয়। সেই দিনই একটা বাসা ভাড়া করিয়া আমাকে স্থানান্তরিত করে এবং শহরের ভাল-মন্দ নানাবিধ চিকিৎসক জড় করিয়া ফেলে। ভালই করিয়াছিল। না হইলে অন্য ক্ষতি না হোক, ‘ভারতবর্ষে’র পাঠক-পাঠিকার ধৈর্য্যের মহিমাটা সংসারে অবিদিত থাকিয়া যাইত।

 ভোরবেলা পিয়ারী কহিল, বঙ্কু, আর দেরি করিস্ নে বাবা, এই-বেলা একখানা সেকেণ্ড ক্লাস গাড়ী রিজার্ভ ক’রে আয়। আমি একদণ্ডও এখানে রাখ্‌তে সাহস করি নে।

 বঙ্কুর অতৃপ্ত নিদ্রা তখন দুচক্ষু জড়াইয়া ছিল; সে মুদ্রিত-নেত্রে অব্যক্ত-স্বরে জবাব দিল, তুমি খেপেচ মা, এ অবস্থায় কি নাড়ানাড়ি করা যায়?

 পিয়ারী একটু হাসিয়া কহিল, আগে তুই উঠে চোখে মুখে জল দে দেখি; তার পরে নাড়ানাড়ির কথা বোঝা যাবে। লক্ষ্মী বাপ আমার, ওঠ্।