পাতা:শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতা-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রথম আধ্যায় । দিতেছেন। মহাভারতের যুদ্ধপৰ্ব্বগুলি এই প্রণালীতে লিখিত সকলই সঞ্জয়োক্তি । এক্ষণে, উভয় “পক্ষীয় সেনা যুদ্ধার্থ পরস্পর সম্মুখীন হইয়াছে শুনিয়া ধৃতরাষ্ট্র জিজ্ঞাসা করিতেছেন, উভয় পক্ষ কি করিলেন । গীতার এইরূপ আরম্ভ । এই দিব্য চক্ষুর কথাটা অনৈসর্গিক, পাঠককে বিশ্বাস করিতে বলি না । গীতোক্ত ধৰ্ম্মের সঙ্গে ইহার কোন সম্বন্ধ নাই। ষে ধৰ্ম্মব্যাখ্যা গীতার উদ্দেশু, প্রথমাধ্যায়ে তাহার কিছুই নাই । কি প্রসঙ্গোপলক্ষে এই তত্ত্ব উত্থাপিত হইয়াছিল, প্রথমাধ্যায়ে এবং দ্বিতীয়াধ্যায়ের প্রথম একাদশ শ্লোকে কেবল তাহারই পরিচয় আছে । গীতার মৰ্ম্ম হৃদয়ঙ্গম করিবার জন্ত এতদংশের কোন প্রয়োজন নাই । পাঠক ইচ্ছা করিলে এতদংশ পরিত্যাগ করিতে পারেন । আমার যে উদ্দেশ্র তাহতে এতদংশের কোন টীকা লিখিবারও প্রয়োজন নাই ; ভগবান শঙ্করাচাৰ্য্যও এতদংশ পরিভ্যাগ করিয়াছেন । তবে শ্রেণীবিশেষের পাঠক কোন কোন বিষয়ে কিছু জানিতে ইচ্ছা করিতে পারেন। এজন্য দুই একটা কথা লেখা গেল। কুরুক্ষেত্র একটা চক্র বা জনপদ । ঐ চক্র এখনকার স্থানেশ্বর বা থানেশ্বর নগরের দক্ষিণবৰ্ত্তী। অাম্বালা নগর হইতে উহ ২• ক্রোশ উত্তর । কুরুক্ষেত্র ও পানিপাট ভারতবর্ষের যুদ্ধক্ষেত্র, ভারতের ভাগ্য অনেকবার ঐ ক্ষেত্রে নিম্পত্তি পাইয়াছে। “ক্ষেত্র” নাম শুনিয়া ভরসা করি কেহ একখানি মাঠ বুঝিবেন না । কুরুক্ষেত্র প্রাচীন কালেই পঞ্চ যোজন দ্বীর্থে এবং পঞ্চ যোজন প্রন্থে । এই জন্তু উহাকে সমস্তুপঞ্চক বলা যাইক্ত । চক্রের সীমা এখন আরও বাড়িয়া গিয়াছে ।