পাতা:শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতা-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/২১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


༤༠ཐ་ শ্ৰীমদ্ভগবদগীতা । কিন্তু আমরা হঠাৎ বুঝিতে পারি না, ষে সংসারে এত গুরুতর অমঙ্গল থাকিতে ঈশ্বরে অলস্তে বর্ণসঙ্করোৎপত্তির ভয়টাই এত প্রবল কেন ? এমন ত কিছু বুঝিতে পারি না, যে ঈশ্বর বা শ্ৰীকৃষ্ণ ব্রাহ্মণ ধরিয়া ব্রাহ্মণীর নিকট, ক্ষত্রিয়কে ধরিয়া ক্ষত্রিয়ার নিকট, বৈশ্বকে ধরিয়া বৈশুর নিকট এবং শূদ্রকে ধরির শূদ্রার নিকট প্রেরণ করিয়া বর্ণসাঙ্কৰ্য্য নিবারণ করেন । দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ, লোকক্ষয়, সৰ্ব্বদেশব্যাপী রোগ, হতা, চৌর্য্য এবং দান, তপস্তা প্রভৃতি ধৰ্ম্মের তিরোভাব ঈশ্বরের অলিস্তে এ সকলের কোনও শঙ্কার কথা না বলিয়, বর্ণসঙ্কর্য্যের ভয়ে শ্ৰীকৃষ্ণ এত ত্রস্ত কেন ? সঙ্কর জাতির বাহুল্য যে আধুনিক সমাজের উপকারী, ইহাও সপ্রমাণ করা যাইতে পারে । অতএব সঙ্কর অর্থে বর্ণসঙ্কর বুঝিলে, এই শ্লোকের অর্থ আমাদিগের ক্ষুদ্রবুদ্ধিগম্য হয় না । কিন্তু সঙ্কর শব্দে বর্ণসঙ্করই বুঝিতে হইবে, সংস্কৃত ভাষায় এমন কিছু নিশ্চয়তা নাই। সঙ্কর অর্থে মিলন, মিশ্রণ। ভিন্নজাতীয় বা বিরুদ্ধভাবাপন্ন পদার্থের একত্রীকরণ ঘটিলে সাঙ্কর্য্য উপস্থিত হয়। তাহার ফল বিশৃঙ্খলা, ইংরেজিতে যাহাকে disorder বলে । শ্ৰীকৃষ্ণৌক্তির তাৎপৰ্য্য এই আমি বুঝি, যে ভিনি কৰ্ম্মবিরত হইলে, সামাজিক বিশৃঙ্খলতা ঘটবে । আদর্শপুরুষের দৃষ্টাস্তে সকলেই আলস্তাপরবশ এবং কৰ্ম্মে অমনোযোগী হইলে, সামাজিক বিশৃঙ্খলত যথার্থ ই সম্ভব । gro সক্তাঃ কৰ্ম্মণ্যবিদ্বাংসো যথা কুৰ্ব্বস্তি ভারত। কুৰ্য্যাদ্বিদ্বাংস্তথাসক্তশ্চিকীষু লোকসংগ্ৰহম ॥ ২৫ ॥ হে ভারত । যেমন অবিদ্বানের কৰ্ম্মে আসক্তিবিশিষ্ট হইয়।