প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১০০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মিছরির শরবত । হয় । অথচ শিরিনের বিদ্যের দৌড় কলেজ আদি পেঁৗছতে পারেনি । আমার বাবাই ছিলেন তাঁর হায়ার ম্যাথমেটিকসের শেষ মাইলস্টোন, তার সংখ্যা ছিল জিরো । এবং মজাটা এই অঙ্কের রাজত্বে জিরোরও নাকি একটা অদ্ভুত মানে আছে। শিরিনমাসি সেই স্টোন অতিক্রম করে কোথায় পৌঁছেছেন, আমি তার সামান্য জরিপ করেছি। বাকি রহস্য এই চিঠির আড়ালে লুকিয়ে । সেটাই এই গল্পের ভবিষ্যৎ । তার রেজাল্ট আমার জানা নেই । যাই হোক । মাসি বলতেন, তাঁর জীবনটা, তাঁর লাইফ, ফুল অব অ্যাডভারসিটিজ অ্যানড ফুল অব কনট্রাডিকশনস । একটা উলোটপালট আবর্ত । তখন সবখানি বোঝার সাধ্য ছিল না। ক্লাশ নাইনে পড়ি । বয়স মানুষকে কিছু অঙ্ক শেখায় । আমি তখন অঙ্কের আসল ভ্ৰান্তি এবং নকল সাফল্য বুঝতাম না । শিরিনের দুঃখ পয়েন্ট-বোর্ডে কতদূর উঠেছিল জানা নেই। শুধু সেই বিচ্ছেদের ধোঁয়াশা-লিপ্ত রাত্রিকে মনে পড়ে । মাসি যেদিন আমাদের ছেড়ে চলে এলেন । সেই এক নারীর রক্ত-ফোঁসানো রাত্রি আজ মনের তলে কুণ্ডলী পাকায় । সামুদ্রিক জলকম্পনের দীর্ঘনিশ্বাস লাগে। সেদিন মানব-মানবীর বিচ্ছেদের একটা ক্রুর আকৃতি দেখতে পেয়েছিলাম। তার একটা ভিজুয়াল এফেক্ট হয়েছিল আমার মধ্যে । একজন কিশোরীর বুকের কুঁড়ি যৌবনের ভারি বুকের জগদ্দলবন্দী হয়ে হয়তো হাঁসফাঁস করে উঠেছিল । ঘুমজড়ানো চোখে বিছানায় ধড়ফড়িয়ে উঠে বসেছি। কে যেন বিনিয়ে-বিনিয়ে কাঁদছে । দোতলার বারান্দায় বাবা মধ্যরাত্রির নামাজ পড়ছেন জোরে-জোরে । তাঁর কণ্ঠে কেমন একটা বিরক্তি আর ঈষৎ উদ্বেগ মেশানো । নামাজের মধ্য দিয়ে তিনি কোথায় যেন পালিয়ে যেতে চাইছেন । সেতারের এলানো তারে কে যেন বেসুরো আঘাত করে যাচ্ছে । সেই সুর কালো আকাশের গড়ানে নেমে হারিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ-ভাঙা ঘুমের জড়িমায় বাস্তব তখন অস্পষ্ট । দুই শিরিন মাসি বিয়ের এক বছরের মাথায় হঠাৎ একদিন গলায্য দড়ি দিযে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন । ধূপঘন সন্ধ্যার অন্ধকারে সবার অলক্ষ্যে দড়ি হাতে করে একাকী গিয়েছিলেন সিঁদুরে আমগাছের কাছে। ডালে লটকে কুলছিলেন তিনি। পা দুখানি আলতালিপ্ত এবং ঝুলন্ত ছিল, বাবার হাতের টর্চের আলোয় সাদা ধবধবে পা আমিও দেখেছি । শিরিনের গোঙানি শুনে (প্ৰথমে বুঝিনি সে অমন করে গোঙাচ্ছে এবং কোনদিকে ডাকছে)। আমরা সবাই দৌড়ে গিয়েছিলাম। বাগানের মধ্যে, বাবার হাতের জোরালো টর্চ দাউ দাউ করে জ্বলে ề Q&