প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১০৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাবা গরম গলায় বললেন-ওই মেয়েকে আমার তালাক দেয়া দরকার । ও আমার সন্তান খেয়েছে। হিন্দু প্রতিবেশীর সাথে ওরই কারণে বিবাদ-বিসংব হচ্ছে। আমি লীগ করি, হিন্দু রাষ্ট্র, দার-উল-দুর্ব, এদেশ দার-উল-ইসলাম নয় । এখানে ধৰ্ম্ম বাঁচে না । ওই শালা সমাজদাবি কতখানি সাংঘাতিক বামুন জানি না তো ! পারে না যে গাছের গলায় পৈতে পর্যায । শিরিন আর নিজেকে সংযত ব্যাখতে পারলেন না । ফস করে জ্বলে উঠলেন ।--আপনিই বা ওই গাছের মাথায় ইসলামি টুপি পরাতে চাইছেন Ges বাবা বললেন-তুমি পাপ করেছ, তাই । লজ্জা কবে না তোমার ? তোমার জন্যে এইসব, ফোর কথা বলতে এসেছ ! শিরিন ধীরে-বীরে অন্য ঘরে চলে গেলেন । আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম, সামান্য একটি গাছকে কেন্দ্র করে কী কুচ্ছিত সংস্কার বার-বার শিরিনকে আঘাত করে যাচ্ছিল । বাবা এই দেশকে কখনও নিজের দেশ মনে করেন নি । কথায়-কথায় বলতেন, এই দেশ বিধমীর দেশ । দার-উল-হাৰ্ব্ব । এদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করা যায় না । বিধমীদেব, কমিউনিস্টদের শাসন জারি হয়েছে। ফতোয়া-ই-আলমগীরিতে রয়েছে, দেশে যখন ধমীয় স্বাধীনতা থাকে না, বিধমীর শাসনজারি হয়, আদালত ইসলামকে অপমান করে, নাস্তিক মার্কস সাহেবের পূজা করে মানুষ, তখন দেশ দার-উল-হার্বনয় তো কী ? তাই বাধ্য হয়ে উনি জামাত-ই-ইসলামকে পছন্দ করেন । মাঝে-মাঝে সংসার ছেড়ে জামাতে চলে যান । দেশে-দেশে ইসলামি জীবন-বেদ প্রচার করে বেড়ান । একটা বিরাট অংশের ইসলামি যুবশক্তি জোব কদমে এই প্রচার অভিযানে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে। ছাত্রদের মধ্যে ইসলামি নবজাগরণ ঘটছে। এই দেশের বিধর্ম নেতাদের বিরোধিতার কারণে একদিন ওহাবী আন্দোলন মারা খেয়েছে । এই বিষয়ে তাঙ্ক করতে ভালোবাসেন বাবা । সাদিকুল সাহেব আসেন বাবার কাছে । মার্কসের ভক্ত । রাজনীতি করেন । চাকরি পাননি বলে শহরে একটা টিউটােরিয়াল হােম খুলেছেন । উনি এলে বাবার সাথে ‘বাহাস হয় । বাবা বোধহয় সাদিকুলকে সহ্য করতে পারেন না। মায়ের দিক থেকে উনি আমাদের অতি দূর সম্পর্কে আত্মীয়। আমি মামা বলি। আমার ভাইবোনদের উনি আদর করেন । একমাত্র উনিই শিরিনের সাথে গল্প করার জন্য অন্দরে ঢুকে পড়তে পারেন । মায়ের সাথে নানান কথা বলেন । চা খান । কখনও-বাঁ বাবাকে নিয়ে আমাদের সামনে টিপপনি করেন । বাবা সাদিককে আমল করেন না । বাবারও ধারণা, ছেলেটি ভালো । তবে বিভ্রান্ত । এই দেশের আসল বিপাক কোথায় SO