প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১০৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গিলে নিচ্ছিলেন । শিরিনের চোখ থেকে চোখ টেনে সাদিক আমার দিকে চেয়ে বললেন--জীবনানন্দ তারপর কবিদের দল বেঁধে গভীর রাতে এক গাছতলায় নিয়ে গিয়ে ফেললেন । বিষম অন্ধকার । গাছের তলায় গিয়ে জীবনানন্দ একখানা শুকনো ডাল, ওই গাছেরই ডাল, কুড়িয়ে নিয়ে গাছের দিকে লক্ষ করে ছুড়ে মারলেন । গাছের ডালে পাতায় গিয়ে আঘাত করা মাত্র সেই গাছের বাসিন্দা পেচা আর বাদুড় সশব্দে চেচিয়ে উঠে উড়াল দিয়ে শূন্য আকাশে উড়ে গেল। তাদের পাখার ঝাপটা লেগে চারপাশের অন্ধকার কেঁপে উঠল ! জীবনানন্দ আঙুল তুলে দেখালেন, দ্যাখো, কী চমৎকার ঢেউ উঠছে। দেখলে ? আমরাও মনে-মনে সেই দৃশ্য দেখতে পাচ্ছিলাম। মামা বললেন-ঘটনাটা একই। গাছকে যাঁরা নামাজ পড়তে দেখেন, তাঁরা প্রাচীন। আর অন্ধকারের গায়ে যাঁরা ঢেউ আছড়ে পড়তে দেখেন, তাঁরা আধুনিক । এই যা তফাত । কিন্তু কবির তরঙ্গ দেখার মধ্যে কোনো স্বাৰ্থ ছিল না । জীবনানন্দ গাছের কাছে ফল চেয়ে কাঁদেন নি । চেয়েছিলেন নিঃস্বাৰ্থ সৌন্দৰ্য । অন্য কবিরা শুধিয়েছিলেন, গাছে যে শুকনো ডাল টুড়ে মারলেন, সেটা কেন ? কবি বললেন-ঠিকই করেছি। গাছ তো এখন ঘুমিয়ে। আমি ওরই ডাল দিয়ে ওকে ছুঁয়ে দিলাম । গাছ জাগল না । কষ্ট পেল না । আমারও তরঙ্গ দেখা হল । অন্যরা প্রশ্ন করলেন-পাখিগুলো যে উড়ে পালাল, তাতেও তো ঘুম ভেঙে যেতে পারে ? কবি বললেন-না। তা নয়। ঘুমের মধ্যে প্রিয়জনের হাত-পা এসে আমাদের গায়ে পড়ে, আমরা দিব্যি ঘুমিয়ে থাকি, এ-ও ঠিক তাই। চলো, গাছ ঘুমিয়ে থাক। আমরা যা দেখবার দেখে নিয়েছি।--তাই বলছিলাম। বলে সাদিক চুপ করে রইলেন । -বলুন ! অস্ফুট বললেন শিরিন । সাদিক বললেন-গাছের কাছে ক্ষমা চাইবেন । প্রার্থনা করবেন গাছ যেন ফুটে ওঠে । বলবেন, আমি তোমার ফল নেব না। আমি শুধু দূর থেকে চেয়ে-চেয়ে দেখব । ব্যাস । গাছ তখন খুশি হয়ে বলে আর কথা শেষ করলেন না সাদিকুল । চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পায়ে-পায়ে বারান্দায় এলেন । হঠাৎ কী মনে পড়াতে ঘুরে দাঁড়ালেন। আমরাও ওঁর পিছু-পিছু এগিয়ে এসেছি। শিরিন শুধালেন-আচ্ছা সাদিক, লিলির প্রতীকমুলাটা কী সেটা তো বললেন না ? সাদিক নিঃশব্দে হোসে ফেলে বললেন--আপনার মনে আছে দেখছি । অল্প কথায় বলব হাতে আর সময় নেই। কালই শহর চলে যাব। একটু এখন তাড়া Vatic 808