প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চৈত্রের বিকাল । ভালো লাগবে । তিনখানা বেতের মোড়া নিলেই চলবে । কী বলেন ? বাইরে রাস্তায় আইসক্ৰীিম হেঁকে যাছিল-বললাম-চট করে নিয়ে আসি । খেতে-খেতে গল্প করা যাবে । বলেই আমি নীচে নেমে আইসক্রিীম নিয়ে ছাতে উঠলাম। খেতে গিয়ে ছেলেমানুষের মতন তিনজনেরই খুব হাসি পাচ্ছিল । শিরিন মুগ্ধ হয়ে সাদিকের চোখে কিসের ভাব বিনিময় করতে চাইছিলেন । আমি লক্ষ করেছি । চৈত্রের শেষ বিকালের আলো আমাদের গায়ে এসে লািগছিল, একটু মিষ্টি হিম লেগেছিল বাতাসে। মা একবার ছাতে উঠে এসেছিলেন । মাকে বললাম-তুমি একটা আইস খাবে, মা ? মা মিঠে হোসে বললেন-তোমরাই খাও, বাছা । সবই তোমাদের ছেলেমানুষ । নেহাত আজ তোমাদের ব্যাপজান নেই । বলতে-বলতে মা নীচে চলে গেলেন । তখন কথা শুরু হল । আমি কিছুক্ষণ বসে শোনার পর মোড়া ছেড়ে ছাতের অন্যপ্রান্তে সরে এসে পায়চারি করে ঘুরতে লাগলাম। সব কথা আমার শোনা উচিত নয়। মাসির যৌন-জীবনের কিছু সমস্যা আছে বুঝতে পারতাম। সাদিক কথা বলে যাচ্ছিলেন, বারবার আমারও কান উৎকৰ্ণ হচ্ছিল । শুনতে পাচ্ছিলাম। উনি বলছেন, মানুষের সমাজবিকাশের সাথে-সাথে মানুষের সেকসুয়াল লাইফ কীভাবে স্তরে স্তরে উন্নত হয়ে কীভাবে সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে। সেটা এখন অনুভূতির এক অতি সূক্ষ্ম স্তরে একটা আর্টিসটিক অ্যাপ্রোচ, লাইফ অ্যাপ্রোচ তৈরি করেছে। পশুত্বের পর্যয়ে মানুষের সেক্স পডে নেই। নারী-পুরুষের এই সম্পর্ক শুধু দেহগত নয়, তার অনেকখানিই মানসিক । শুনতে-শুনতে শিরিনের মধ্যে যৌন-জীবনের এক সুন্দর আকাঙক্ষা জেগে উঠেছিল। সেটা নিবারণ করবে কে ? সাদিকুল বলছিলেন-শুনেছি। অনেক পুরুষের মধ্যে একটা পাশবিক খাই-খাই ভাব থাকে । নারীর দেহ পেলেই তাদের জিভা কুকুরের মতন ঝুলে পড়ে। এসবই শোনা কথা । আবার এমন মানুষও আছে, যার স্পর্শ অবধি খুব আটিসটিক । সবটাই নির্ভর করছে নারীপুরুষের রুচি-অনুভূতির একটা সমান তরঙ্গের ওপর। আমি বই-পড়া কথা বলছি কিন্তু। আপনিই হয়তো ভালো বুঝবেন। এখন কথা হল, কার যে লাজুকীলতায় আসক্তি এবং কার লিলির মেরুদণ্ডে মুগ্ধতা, সেটাই প্রশ্ন। মেয়েদের দেখবেন, হাঁটাচলার মধ্যে, বসার মধ্যে একটা কেমন শরীর গোপন করার ব্যস্ততা, চোখ যেন নিজেরই দিকে, এটা ইংরাজ মহিলার হয় না। কারণ বহুকিছু। ওখানেও সেক্স-এর আপীল থাকে। কোনোটা সামন্ততান্ত্রিক, কোনোটি গণতান্ত্রিক ভ্যালুজ থেকে আসে। মেয়েদের চলার ছন্দেও ঢালানি থাকে। থাকে একটা দৃপ্ত ভাব । তা Σ Σ8