প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমি বলছিলাম, আপনাকে সব জেনেও মানিয়ে চলতে হবে । ফুল ফোটানোই আপনার কাজ ! আমি উঠিব । আমি লক্ষ করলাম, মাসি হতভম্ব হয়ে গেছেন । ওঁরা নেমে পড়ছেন আগে-আগে, আমায় ওঁরা লক্ষই করেননি । পেছনে আমি । সব আগে সাদিকুল । অন্ধকার গাঢ় হচ্ছে ক্রমশ । সিঁড়িতে ওদের দেখা যাচ্ছে খুবই অস্পষ্ট । ছাতের সিঁড়ি বলে একটা জায়গা খুবই অন্ধকার । মাসি একটা বড়ো রকম ঝাঁপ দিয়ে টপকে নামলেন সাদিকের সিঁড়িতে । বোধহয় সাদিককে স্পর্শ করলেন। সাদিক বললেন-শুনেছি। মানুষের একটি চুম্বনের পরমায়ু সারা জীবনের সমান । কী জানি, কথাটার কী মানে ? তুমি জান শিরিন ? শিরিন বললেন-তুমি আমায় দেবে ? --কি দেব তোমায় ? -ওই যে বললেন। সারা জীবনের সমান যার পরমায়ু ? --না, শিরিন । এই অবস্থায় ওটা বড় ছেলেমানুষ হবে । তুমি ঘরের বউ । আমি ভ্যাগাবনড । আমার কাছে কথা ছাড়া কিছুই চেও না । ওই অন্ধকারেই সাদিক সেদিন হারিয়ে গিয়েছিলেন । আমি পিছু হটে ছাতে ফিরে এসেছিলাম । জোর হাওয়া দিচ্ছিল ছাতে । পাতলা একফালি চাঁদ ছিল সন্ধ্যায়। ছাতে ঘুরতে-ঘুরতে আমার বুক খালি হয়ে গিয়েছিল । স্বল্পশিক্ষিতা, কিন্তু প্রখর বুদ্ধিমতী মেয়েটি সাদিকুলের চিন্তার দান গ্ৰহণ করে করে মনের একটি এমনই গড়ন তৈরি করে নিয়েছিলেন যে আমাদের সংসার তাঁর পক্ষে কারাগার হয়ে উঠেছিল । সেদিনও রাত্রে বাবা মাসির ঘরে ঢুকেছিলেন । সেই চাপা ক্রুদ্ধ ভয়ার্তচিৎকার শোনা যাচ্ছিল । আমি মানুষের যৌন-জীবনের কোনো বিকৃতির কী রহস্য জানি না । মাসি কেন চিৎকার করেন, জানতাম না । কেবলই বুকটা শুকিয়ে যেত । এই অসহনীয় ঘটনা বাবার সম্পর্কেও আমায় বিতৃষ্ণ করে তুলেছিল । বাবা বরাবর মাসিকে তাঁর ভুক্তাবশেষ খাওয়ানোর চেষ্টা করতেন। থালায় খেতে-খেতে কিছু অবশেষ রেখে দিয়ে বলতেন, তুমি খেও, শিরিন । মাসি সেই থালা উঠিয়ে এনে গোরুর নাদায় ফেলে দিতেন দেখেছি। একবার আমারই চোখের সামনে পেঁপের ফালি কুকুরের মুখে ফেলে দিলেন । কুকুর পেঁপে খায় እ» b¢