প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সেই রাতেও ধীরে-বীরে একসময় কান্না স্তিমিত হয় । তারপর সব ঠাণ্ডা । তারও কিছু পরে পড়া ছেড়ে মায়ের ঘরের দিকে জল খাওয়ার জন্য গিয়ে দেখি মেঝোয় ওরা বসে। মা আর মাসি । মাসির শাড়ি এলোমেলো । চোখ মুখ থমথমে । যেন সবঙ্গে ঝড় বহেছে । গালে গলায় অাঁচড় । আমি বারান্দার অন্ধকারে দাঁড়িয়ে পড়লাম। মাসি বলছেন-আমাদের নিম্নাঙ্গের যে নারী-চিহ্ন, তোমায় বলি বুকু, ওটা একটা কদৰ্য কুৎসিত জন্ম-দাগ। আমার কোনো রোমাঞ্চ নেই, বুৰু । আনন্দ পাই না। কেন বুড়ো আমায় জ্বালাতন করে !! একজন গোঁড়া সাম্প্রদায়িক লোক, আমায় গমন করুক, আমি চাই না । খাব-দাব আর রস বিলোব, আমি পারব না ; আমার ঘেন্না করে । আমার ঘরে বুড়ো কেন খোমোইনির ফটো টানিয়েছে ? ওই তছবির দেখে। কখনও নামাজ হয় ? আমায় সেদিন নজরুলের ফটো টানাতে দিলে না । কেন ? বলো ? গাছে ফল হয় না। বলে আমায় দোষী করা কেন ? ওই গাছ যেমন ভয় পায়, আমিও পাই । যেদিন বুড়ো আমায় প্রথম টুয়েছে, সেইদিন থেকেই আমার ভয়ের শুরু, বু। এই ব্যাপারটা দুনিয়ার কেউ বুঝবে না। বলতে-বলতে মাসি মায়ের কোলে মুখ গুজে ডুকরে-ডুকরে কাঁদতে লাগলেন । বাবার কড়া নামাজি গলা শোনা যাচ্ছিল। তখনও ঘুমের জড়িমা জড়িয়ে আছে চোখে । কে যেন বিনিয়ে-বিনিয়ে কাঁদছে । আমি ঘর ছেড়ে বারান্দায় এলাম। অন্ধকারে দাঁড়ালাম চুপচাপ। মাসিই কাঁদছে। কোথা থেকে খানিকটা আলো মাসির কুণ্ডলী-পাকানো দেহে এসে পৌঁচেছে। মাসি বারান্দায় পড়ে আছে। লুটিয়ে পড়েছে। কী হল আজ ? আজ কি অন্যরকম কিছু ? বাবার নামাজ শেষ হল । বাবা জায়নামাজ গুটিয়ে রাখলেন চাঙ্গারিতে বরাদ্দার । মায়ের ঘরে এলেন । মাকে বাবার সেই খাদালো নরম তুলোর ভেজা-ভেজা গলায় বললেন-কুলসম। যা হবার হল। কেউ যেন না শোনে। মুখ ফসকে গেছে। তুমি তাবৎ জিন্দেগি এই ঘটনা চেপে থেকে। যদি কখনও ফাঁস হয়, তুমিও রেহায় পাবে না। আগাম এক তালাক তোমায় দিয়ে রাখলাম। এইটুকু বলেই বাবা নিজের ঘরে ফিরে গেলেন। মাসি বারান্দায় পড়ে রইলেন । কাঁদতে লাগলেন, অনেক রাতে একলা অন্ধকারে শিরিন কখন এই সংসার ছেড়ে কোথায় চলে গেলেন, আমরা জানি না। y