প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বন্ধুটিকে মুখে কিছু না বলে চুপচাপ পোশাক পালটে মুখে একটু ক্ৰীম ঘসে৷ মায়ের কাছে গেলাম । তখন সকাল দশটা বেজে গেছে । বললাম--মা, আমরা একটু সাদিকমামার কাছে যাচ্ছি। মা তো অবাক । বললেন--সাদিক মামা ! কোথায় থাকে ছেলেটা ? -এখানে, এই শহরেই থাকেন । ছেলেমেয়েদের পড়ান । আমি ওর কাছে একটু ইংরাজিটা দেখিয়ে নেব । --বেশ যাও । ওকে জিয়াফত করে এসো । বলবে, মা ডেকেছে । ওর সাথে পরামর্শ আছে । শুধালাম-খালামার কথা তুলবে নাকি ? ওসব তুলো না । মা বললেন--বিপদের সময় আত্নীয়ের পরামর্শ নিতে হয় । সাদিক যদি চেষ্টা করে শিরিন ফিরতেও পারে । আমি ওকে বউতলি পাঠাব । আমার খুব রাগ হচ্ছিল । বন্ধুর সামনে নিজেকে সংযত করে বললাম-যা করবে। আমার পরীক্ষার পর করবে । নইলে ফেল করলে আমার দোষ দিও না । মা বললেন-বেশ-বেশ, তাই হবে । তুমি এখন যাও । বন্ধুর সাথে রাস্তায় নেমেই মনে হল, মা শিরিনের দুর্বল জায়গাটা বোঝেন । ঘটনার পরিণাম ভাবতে গিয়ে আমার মাথা ঘুরছিল। বন্ধু পাশে থেকে অবাক গলায় শুধাল-মাস্টারমশাই তোর মামা বুঝি ? তোর কী ভাগ্য ! ভদ্রলোকের প্রফেসর হওয়া উচিত ছিল । আমরা একটা রিকশা করে মামার ছোটো বাড়ির কাছাকাছি এসে থামলাম । বন্ধুটি রিকশা থেকে না নেমে বলল-আমি স্যারের সামনে যাব না, মিনু । বকবেন । বাঘের মতন করে চোখ পাকিয়ে বলবেনী-রাস্তায় এতক্ষণ খোলামকুচি দিয়ে একক দোককা খেলছিলে বুঝি ? তুমি ভাই একলা যাও, তোমারই তো মামা । বন্ধু কিছুতেই যেতে চাইল না। রিকশা ছেড়ে দিল। অগত্যা একাই আমি । এক বছরেরও বেশি সময় সাদিকমামা আমাদের জীবনে অনুপস্থিত। ছোটাে বাড়ি । পাশে প্ৰকাণ্ড ডোবা । ডোবার ওপারে বিস্তীর্ণ মাঠ । মাঠের ওধারে কমার্স কলেজ । তার ঠিক উলটাে উত্তরে জলঙ্গী বাস স্ট্যান্ড ! একখানা মাত্র ঘর। নীচু ছাদ। প্রাকৃতিক ক্রিয়া কোথায় করেন, স্নান খাওয়া ? ঘরে তালা বন্ধ। ফিরে আসছিলাম। এমন সময় দেখি পাকা সড়ক ধরে মামা এদিকেই এসে গলিতে ঢুকলেন । পাঁচ মিনিট পর মুখোমুখি । দেখেই সোৎসাহে বললেন-ইউ সুইট লেডি, কাম ফ্রম মুন। গতকাল পূর্ণিমার চাঁদের দিকে চেয়ে তোমায় মনে পড়ছিল । ভালো আছ ? δ δο