প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 يونس হঠাৎ মামার কথা আমিও বুঝতে পারলাম না। মামা তখন ভেঙে বললেন-এত মেহমানি আদরের বহর কেন বুৰু ? রফা ? আপস-রফা ? ওকালতি ? আমি শিরিনকে বুঝিয়ে তোমার সংসারে ফিরিয়ে দেব ? আমি ফিরিয়ে দিতে পারি, এটা তোমার মনে হচ্ছে কেন ? মা ঠাণ্ডা গলাতেই বললেন-কেন মনে হচ্ছে, সেটা মনেই থাক সাদিক । ভেঙো না । আমি সবকিছুর সাক্ষী । আমি তো ছেলেমানুষ নই। বিদ্যে নেই। কিন্তু বুদ্ধি তো ছিল, ভাই। মামা মণ্ডা খেতে-খেতে বললেন-কিন্তু সবই তো একজনের ব্যক্তিগত অভিরুচি, পারসোনাল অ্যাফেয়ার, ডিসিশন, বুবু । ও এই শহরেই আছে। ওকেই কনভিকস কর না কেন । আমি আজই ওর সাথে দেখা করে ওকে তোমার কথা বলে দিচ্ছি।-বুবু বুঝবেন কিনা সেদিকে কোনো খেয়ালই ছিল না। ইংরাজি মিশিয়ে, বলার ঝোঁকে বলে, মামা তাঁর কথাগুলো শেষ করলেন । তখন শিরিন খালামা এই শহরেই আছেন শুনে মা আমার চোখে কেমন রহস্য করে তাকলেন । মা বললেন-আমি কী বোঝােব ওকে ? তুমিই বোঝাও । তোমার কথা বুঝবে । আমি বুঝিয়ে পারি নি। আমি কি শিরিনকে বড়োবোনের ভালোবাসা দিইনি, সাদিক ? আমার কি কোনো দাম নেই ? তুমিই ওর সব হলে ? এতদিনের সংসার কিছু না ? সংসারে থাকতে গেলে আমন একটু হয়ই। বুড়ো তো। ওকে তালাক দিতে চায়নি। বুড়োর হাল একবার চোখে দেখবে না তুমি ? মামা দুধের সাথে মণ্ডা শেষ করলেন । তারপর জল খেলেন আরো এক গেলাস । আমি এনে দিলাম। রুমালে কষ্য রগড়ে পকেটে রাখলেন । বললেন-কথাটা সেখানে নয়, বুৰু। তালাক হাজী দিতে চাননি। কেন দিতে চাইবেন ? তালাকটা শিরিনের বড়ো প্রয়োজন ছিল ? -কী বললে, প্রয়োজন ছিল ? -ছিল না ? নিশ্চয় ছিল। তোমাদের খুদা ওকে আশীবাদ করেছেন । রাত্রে যেদিন পালিয়ে আমার কাছে এল । তার সেদিন বড়ো সুখের রাত্রি । তাবৎ দিন কী আশ্চর্য ঘুমিয়ে রইল মেয়েটা । তবু তোমার খাতির, সব ওকে বলব। মা রাগত গলায় বললেন-কে কাকে খাতির করছে, বাছা । তুমি তোমার আপনি তালে বলে চলেছি। সবই তোমার বইয়ের ভাষা, নিজের ভাষা বলতে পার না ? গোদা বাঙলায় বলে, তালাকের প্রয়োজন ছিল না । ছিল তোমার । ওই চাহিদা তুমিই ওর মধ্যে খাড়া করেছি। গল্প পেলে দিন সারি, পালকি মেরে করব S88