প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মাস্টারি দিয়েছি । তোমাকে কাল থেকেই পড়াতে যাবে । ও তো তোমাদেরই । তবে তোমাকে আমি আমার দোষের কথাও বলব। একদিন । আমি কুমারী মেয়েদের প্রেম করতে পারি না, কিন্তু শ্রদ্ধা তো চাই। ইউ হ্যাভ কাম ফ্রম মুন। তোমরা রুপালি মানবী । চন্দ্ৰলোকের কুসুম । তাই কিনা ? বলেই সাদিকুল আপন মনে হাসতে লাগলেন। শিরিন ঢুকলেন ঘরে । শুধালেন-তোমরা ভালো আছি মিনু ? বললাম-আব্বাজীর বুকের হাঁফটা বেড়েছে ? মামা বললেন-ওরা তোমায় আকাশ-পাতাল খুঁজছে, শিরিন । তাই মিনুকে নিয়ে এসেছি । -কেন ? আমায় খোঁজার কী আছে ! মামা বললেন-কাল থেকে মিনুকে অঙ্ক শেখাতে যাবে । বুকুও এসেছেন । বড় কান্নাকাটি করছেন । তোমায় যে কী ভালোবাসেন শিরিন যেফাঁস করে উঠলেন-মিছে কথা । একদম মিছে কথা । ভালোবেসে যে লোক মানুষকে খানিক নোংরা বিষ্ঠা এগিয়ে দেয়, তার ভালোবাসাকে কী নাম দেবে ? আমার কষ্টের কথা সবচেয়ে ভালো করে তাকেই বলেছি আমি । সেকথা তুমিও জান না । তারপরেও সে আমায় বোঝাতে আসে পাঁকের নাম পদ্মফুল । সবচেয়ে ঘূণার কথা কী জান ? বুড়ো ওকে "গালাকের ভয় দেখিয়ে আমার কাছে পাঠাচ্ছে, আর ও দিব্যি চলে আসে আমার ; ত ধরতে ! ওর বহির্নগিরি অসহ্য । আবার শিরিন এ ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেন । বোধহয় রান্নাঘরে। খুব চমৎকার করে সাজানো এই ঘর । প্ৰশস্ত খাট । ভারি তোশক । ধপধাপে বিছানার চান্দর। সুন্দর টেবিল। প্ৰকাণ্ড দামি কাঠের আলমারি । সোফা। চেয়ার। সব আছে। সব পালিশকরা। মেঝোয় মোজায়েক । মাড়োয়ারি খুব পয়সা ঢেলে গড়েছিল । মাসিক ভাড়া থেকে তৈরির খরচ কাটানো হচ্ছিল । নিদেন এই বাড়িতে ওরা ভাড়া না দিয়ে পনের-বিশ বছর থাকতে পারত । যাই হােক, এখন সেই বাড়ি সম্পূর্ণ খালামা শিরিনের। আমাদের এই বাড়িতে কোনো অধিকার নেই। এখানে জীবনকে নিয়ে গুছিয়ে বসা যায় । শিরিনের চোখে জীবনের সেই ইচ্ছে দানা বেঁধে গেছে । মাসি একদিন কথায়-কথায় বলেছিলেন-কোনো মেয়েই বোধহয় আবদুল মাঝি টাইপের বরের স্বপ্ন দেখে না। ভূঁচালো তার দাড়ি । গোঁফ তার কামানো । মাথা তার নেড়া । ছেলেবেলায় পড়েছিলাম। রবি ঠাকুরের ইলিশ আর কচ্ছপের ডিম ধরা আবদুলের গল্প। পদ্মার মাঝি আবদুল । তোমার ব্যাপকে দেখে আমার সেই আবদুল মাঝির আদল মনে পড়ে। তুমি কখনও জীবনে এমন বরের স্বপ্ন দেখতে পার মিনু ? è SR8