প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কথাগুলো মনে পড়ে যাচ্ছিল। খুব তন্ময় হয়ে শিরিন-খালামায়ের বরের গল্প শুনতে পাচ্ছিলাম । হঠাৎ মামার কথায় অন্যমনস্কতা নষ্ট হয়ে গেল । সন্বিত পেয়ে শুনলাম, শুনলাম মামা বলছেন-দেখলে মিনু, কেমন অবুঝ হয়ে গেছে । ও ভয় করছে, আমিও বুঝি কখন ওর শত্ৰুতা করব । আমি বললাম-আমার হঠাৎ করে এখানে আসা ঠিক হয়নি। সাদিকমামা ! আমায় আপনি রিকশায় তুলে দিন । আমি চলে যাই । সাদিকুল কিছুক্ষণ চুপ করে হাতের নখ খুঁটিতে থাকলেন। ঘাড় গোঁজ করে রইলেন । দু-একবার আমার মুখের দিকে চাইলেন অন্যমনস্ক । গভীর চিন্তা করছেন। উনি । হঠাৎ বলে উঠলেন-আমার একটা দোষের জায়গা আছে। আমি শিরিনকে প্রলুব্ধ করেছি। কেন করেছি, সেটা তোমায় বলব, মিনু। একদিন নিশ্চয় জানতে পারবে । আমি চরিত্রহীন, কথাটা একদম মিথ্যে নয় । আমার পারভারশন আছে। একটা খুব নীচু রুচির প্রবৃত্তি আছে আমার মধ্যে । আমি অসুস্থ । কথা শুনে আমি ভয়ানক চমকে উঠলাম । দেখলাম, উনি মায়ের কথায় ভীষণ দুঃখ পেয়েছেন । বললাম-এভাবে বলছেন কেন ? আপনার দোষ কী ছিল ? খালামাকে সাহস দিয়ে একটা পাঁক থেকে তুলে আনলেন । মানুষকে সেন্স দেয়া তো অন্যায় নয় । তাছাড়া, শুধু সেকারণেই খালামা এখানে এসেছেন, তা-ও নয় । খালামার আজকের জীবন দৈব-লব্ধ ব্যাপার । যাকে ইরাজিতে গড়-গফটেড বলে । আপনি একদিন এইরকম একটা গল্প বলেছিলেন। আমাদের । ছাতের ওপর মাদুর বিছিয়ে সেই গল্প আমরা শুনেছি। মামা খুশি হয়ে বললেন-তোমার মনে আছে ? নাউ। ইউ আর মাই বেস্ট ফ্রেন্ড। আমি এই জীবন-এর সপক্ষে এতদিন একটা স্ট্রং যুক্তি খুঁজছিলাম । গল্পটা মনেই ছিল না । সেই রাজকুমারীর গল্পটা, তাই তো ? শিরিন আবার এলেন । বললেন-দুজনে চোরের মতন কথা বলছি কেন ? আমরা কারো ঘরে সিদ করিনি । মামা মাসিকে মৃদু ধমক দিয়ে উঠলেন-তুমি এত উত্তেজিত হও কেন ? সমস্যা অনেক গভীর। লঘু করে দেখা ঠিক নয় । বুকুর ধারণা, আমি, কেবল আমিই তোমাকে হাজীর সংসারে ফেরত পাঠাতে পারি । --9s fris --বুবু বলছেন । -বুবু যা খুশি বলুন। তুমি নিজে কী বলছ ? তাড়িয়ে দেবে ? ভিখিরি করে দেবে ? এখন দেখছি, কথা ছাড়া সত্যিই তুমি কিছুই পার না। আমি জানতাম, x R6ł