প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১২৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


-প্রথম পর্বের গোড়ার দিকেই কোথাও এক জায়গায় শ্ৰীকান্ত কবিত্ব সম্পর্কে জোর অনীহা দেখিয়ে বলছে, শ্ৰীকান্ত লোকটি কবিত্বের বাস্পীশূন্য একজন খাঁটি গদ্যের মতন শুকনো মানুষ । পোড়া চোখে গাছকে গাছ দেখে, পাথরকে পাথরই দেখে । মেঘকে মেঘই মনে হয় তার ৷ মেঘের দিকে চেয়ে থেকে ঘাড় ব্যথা করে ফেলেছে, মেয়েদের মাথার একরতি চুল আদি দেখতে পায়নি । চাঁদের মধ্যে প্রিয়ার মুখ উদ্ভাসিত হযনি। বড়ো বেড়ে বলেছেন শরৎবাবু। আবার সেই লোকই জীবনে একদিন শ্মশানে গিয়ে অন্ধকারের রূপ দেখে মুগ্ধ । এই দেখতে পাওয়াটাও জীবনে সব সময় হয় না। আমি যেমন অবিবাহিত মেয়েদের মধ্যে কোনো আকর্ষণ খুঁজে পাই না । -সে কী ! কেন ? —ওটাই আমার দোষ, মিনু। একদিন সব বলব। কিন্তু শিরিন তেমনি এক অন্ধকার । অবধি নেই। শেষ নেই। বড় অবাক করে দুই চোখ টেনে রাখে। মামা চুপ করে রইলেন । খানিক বাদে আমিও কেমন নিজেকে কোথায় নিঃসঙ্গ এক ভাবনার আবর্তে হারিয়ে ফেলেছিলাম । রিকশা কি থেমে ছিল ? হঠাৎ পাশে দেখি মামা নেই। অন্ধকারে কোথায় মিশে গেছেন । বী হাতে মামাব সেই বিশাল অন্ধকার মাঠ খ খ করছে। এই অন্ধকারে একলা চলতে-চলতে কেমন একটা কষ্ট হচ্ছিল আমার । আবিষ্কার করলাম, আমি কাঁদছি। খুব গোপন এক আকুলতা আমায় কাঁদাচ্ছে। କମ୍ପ୍ বলাই বাহুল্য, আমি পরীক্ষা ভালো দিতে পারিনি। পরীক্ষার পর মা গাঁয়ের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন । আমিও শহরে একা ।। ঘরে একজন রান্নার মেয়ে ছাড়া কেউ নেই। শহরের এক লাইব্রেরির মেমবার হয়ে গেলাম । সেখানেই একদিন মাসির সাথে আমার দেখা হয়ে গেল । মাসি বা সাদিক কারো সাথেই উপরের ঘটনার পর দেখা করিনি । ওঁরাও কেউ আমার খোঁজ করেননি । মাসিকে বললাম-তোমার সাথে দেখা করিনি বলেই যেটুকু হবার হল, ভালোমন্দ একরকম । নইলে সেটুকুও যেত । আমি পরীক্ষার কথা বলছি । এইভাবেই সেদিন মাসির সাথে কথা শুরু হল । মাসি একখানা নতুন প্রকাশিত উপন্যাস ইসু, করিয়ে আমার হাত ধরে বললেন-তুমি বই নিয়েছ ? চলো একটু দুজনে ঘুরব । বলে। লাইব্রেরির করিডোর ডিঙিয়ে রিকশায় জটলার চীেমাথায় এসে থামলেন মাসি । মাসিকে জীবনানন্দের কবিতার কোনো এক নায়িকার እ Sዓ