প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


-গরম কোথায় ? শীত এখনও যাই-যাই করছে, যাচ্ছে না । --নাইস বলেছ। তবে তাই হােক । বলে আমি কফি বানাতে গেছি, এমন সময় বাবার কণ্ঠস্বর। বুক হিম হয়ে গেল। মাসিকে এখানে এনে কী ভুল করেছি আমি ? মাসি আমায় হয়তো ভুল বুঝবেন । কাজের মেয়েটাকে বানাতে বলে বাইরে এলাম । দেখি দেয়ালে পাঁচখানা সাইকেল । ক্যারিয়ারে বেডিং বাঁধা । ওরা পাঁচজন উঠে এলেন । পাঁচজনই লীগের লোক রাজনীতিতে, ধর্মে বিশেষ জামাত করেন । তবলীগ করে বেড়ান । বেশির ভাগ সময় সাইকেল করে ঘোরেন । রাত্রে এখানে থাকবেন বোঝাই যাচ্ছে। প্রত্যেকে মুসলমানি পোশাক পরেছেন । চুস্ত আর কলিদার । গলায় জড়ানো লম্বা রুমাল । মক্কা-মদিনার ছাপ। মাথায় গোল টুপি । মুখে কারো কাঁচাপাকা দাড়ি। কারো ভীষণ কালো সুন্নত । -দুজনের মধ্যে কোনটা আপনার ছোট গিন্নি ? প্রশ্ন একজনের । মাসিকে দেখালেন বাবা । দ্বিতীয় জনের মন্তব্য-এ তো বাড়িতেই রয়েছে দেখছি। পালিয়ে গেছে বলছিলেন ? বাবা বললেন-পালিয়ে আর যাবে কোথায় ! একটু বিরাগ মতন হয়েছে। আপনারা দেয়া করুন। ভালো-ভালোয় সুমতি করে উনি যেন কালই বাড়ি ফেরেন । আমার সংসার উরাল যাচ্ছে বড়েমিঞা । কালই সবাই মিলে কিসের যেন হােম হয়েছে, ওখানে গিয়ে মাস্টারদের মেহেরবানি চাইব । আর্জি করব । কী বলেন ? একটু থেমে, এই হচ্ছে আমার একমাত্র মেয়ে মনোয়ারা, ডাক নাম মিনু । বললেন বাবা । বললেন-আমার প্রথম তিন ছেলে মারা গেছে হঠাৎ-হঠাৎ ৷ এক মেয়ে, সে-ও গেছে কলেরায় । তারপর এই মেয়ে । পরের দুই ছেলে বাড়িতে দেখলেন । এই আমার একমুঠো সংসার । কেন যে আলগা হয়ে গেল । সবই খোদার মর্জি । এবার শিরিন, তোমাকে ঘরে ফিরতে হবে । কাজের মেয়েটি কফি এনেছিল। ভেবেছিলাম, মাসি খাবেন না। কিন্তু দিব্যি খেয়ে যেতে লাগলেন চুপচাপ । নিংড়ে খেয়ে টেবিলে কাপ রেখে উঠে দাঁড়ালেন । আমায় বললেন, চললাম মিনু। কাল দেখা করো। মাসি একবারও পেছনে ঘুরে চাইলেন না। অন্ধকারে রিকশার ঘন্টি দ্রুত রাস্তায় চলে গেল মিলিয়ে যেতে-যেতে । আমি বললাম হােমে যাবেন কেন আপনারা ? -কোন যাব, সে কৈফিয়ত তোমাকে দিতে হবে নাকি ? যা ভালো বুঝছি, আমরা করছি। তুমি চুপ করে থাকো। বাবা গর্জন করলেন । রাত্রে আর কোনো कक्षी दल नों ! Y 8 à