প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বর-কনে বসেছে । মিঠাই শরবত পানি খাওয়ানো হচ্ছে । একটা ছোট রসগোল্লার আধখানা বরকে খাইয়ে বাকি ভাগ জাহেদার মুখে তুলে দেওয়া হচ্ছে। বাঁকা চোখে সুখবাসকে দেখছে জাহেদা । কাপড়ে জড়ানো কিশোরীকে কলাবউয়ের মতন দেখাচ্ছে । সুখবাস কালো পশমের কিস্তিটুপি, সাদা ইস্তিরিবিহীন পা-জামা জামা পরেছে । বাংলাদেশি জাপানি টেরিকটন । পায়ে জাফরি ফিতে চামড়ার স্যাণ্ডেল আর ধলো মোজার তলায় ধুলোর দাগ । মুখে গান্ধীরুমাল, মুখে ঘামতেলের মতন হিমানী । ঐটোজল খাওয়ানো হচ্ছে কনেকে । গিয়াসজী সুখাবাসের হাতে মেয়েকে সপো দিচ্ছেন ৷ খাইয়ে না-খাইয়ে এতদিন সাথে ক’রে আগলে বেখেছি। মানুষ করতে পারিনি । তবে মেয়ে আমার দশ পারা কুরান কণ্ঠস্থ করেছে। তার দেহ পবিত্র । তার যেন অসম্মান না হয় সুখবাস বাবাজীবন । জাহেদার নিঃশ্বাসে ফেবেস্তার গায়ের গন্ধ পাবে বাপজী । কখনো কোনো যাতনা দিও না । আদর দিয়ে মুহকৰত দিয়ে সুখি করবে, তার বেশি কামনা কবি না । তার জীবনমরণ তোমার হাতে । তার ভালোমন্দ তোমারই হাতে । তোমারই পায়ের তলায় তার জান্নাত (স্বর্গ) । মা জাহেদা, সুখবাসই তোমাব সব মা । ইহকাল পরকালেব সাখী । সুখদুঃখের শরীক । স্বামীর কথা কখনো অমান্য কোরো না । যখন যা চাইবে, সাথে সাথে পালন করবে ! যত কষ্টই হােক, কোনো কিছুতেই না বলবে না । (হাদীসে আছে। উটের পিঠে যেতে যেতে স্বামীর যদি কামনা জাগে, স্ত্রী তা সেই উটের পিঠেই নিবৃত্ত করবে । ) কথাটা মুখ ফুটে বলতে পারলেন না গিযাসজী : আটকে গেল । কেন না। জাহেদার এখনো সারা বুকে ফুট পূর্ণিমা আসেনি। হায়েজ (মাসিক ঋতুস্ৰাব) হয়নি । কাঁচা নরম গা । হাড়গুলো পুরোপুরি শক্ত হয়নি । এসব কথাও তো বলতে হয় । বলতে পারেন না। তিনি । কারণ তিনি পিতা । চুপ করে থাকেন । কিছুক্ষণ পর ফের বলে যেতে থাকেন-যখন যা চাইবে দিতে হবে । তার সমস্ত ইচ্ছাই তোমার ইচ্ছা । তার ভালো লাগাই তোমার ভালো লাগা । তার দেহই তোমার দেহ । তার মনই তোমার মন । এক আত্মা, এক প্ৰাণ । আর তোমাদের সুখেই আমাদের সুখ । থেমে পড়লেন মৌলবী । অস্ফুট ডুকরে উঠল কণ্ঠস্বর। সেইদিকে চেয়ে রাড়ী বেওয়া নাদিরার চোখ ছলছল ক’রে উঠল । তিনি বাবান্দায় মেয়েদের জটিলায় দাঁড়িয়ে সব দেখছেন । সুখবাসের ফুপু । বিয়ের রাত। বর কনে এক ঘরে শুয়েছে। বাইরে থেকে শেকল তুলে দিয়েছে কে বা কারা । মধ্যরাত্রে কেমন একটা আর্ত মেয়েলি স্বর উচ্চকিত হয়ে থেমে যায়। কেউ কিছু বুঝতে পারে না । মা চাচী আর বউরা এসে সুখবাসকে নরম ক’রে ডাকে । কোনো সাড়া পায় না । সব নিঃশব্দ । হঠাৎ কিঞ্চিৎ እ6፩