প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১৩১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দুঃখ করে বললেন-ওই মেয়েটির নাম সুচেতা, মাথায় সিঁদুর । দশ দিন আগে জনাৰ্দন বিয়ে করেছে। বোঝো ! একটু ক্ষণ চুপ করলেন কুন্তল । তারপব বললেন, আমি এই হােমে আর থাকব না । সাদিকুল কোথায় আছে, ঠিক জানতে পারব | মোক্তারামামাও কিছু বলতে পারছেন না। সামনে সাত ৩ারিখ কোটের ডেট । তুমি ওইদিন যেও । --না । আমি গেলে বাবা গলা কেটে ফেলবে । ওরা এখন ইজতের সওয়াল । বাবা কোরান হাতে করে লীগের মওলানাদের সামনে কসম খেয়েছে তালাক দেয়নি বলে । গত রাতেও মাকে বলছিল, কুলসম, তোমার হাতে আমার ইজত বাঁধা । কসম খেয়েছি, সেই কসমের মান রেখো । নইলে আমি সংসার জ্বলিয়ে দেব । রাস্তার কুকুর বেড়াল করে দেব । আমি উসমান জমাদারের পোতা । মা ভয়ে শুকিয়ে এতটুকু হয়ে গেছে। কুন্তল বললেন-তবে তো ‘কেস ফেভারে আসবে না। শিরিন হেরে যাবে। মুসাবিদায় তোমার মাকে সাক্ষী করে হাজী তালাক দিয়েছে বলা হয়েছে। অতএব শিরিন হরছে । আমি অন্যভাবে ‘কেস তৈরি করতে বলেছিলাম । শিরিন তা কিছুতেই শুনলে না । এখন কী হবে ? —কী হবে, আপনিই বলুন ? অসহায় শোনােল আমার গলা । কুন্তল বললেন-আমি কী বলব, মিনু ? বলবেন তোমার মা । যাক গে, এখন কী হয়, দেখো । বলে কুন্তল সিগারেটের বোঁটা জুতোর তলায় পিষলেন। তারপর অন্যমনস্কের মতন ক্লাসে চলে গেলেন । আমি আর দাঁড়ালাম না । দিন পনেরো পর হােমে আবার গেলাম। দেখলাম, কুন্তল চাকরি ছেড়ে কোথায় চলে গিয়েছেন । মাসিকে জানিবার সামান্য শেষ সূত্রও ছিড়ে গেল । বুকের ভেতরটা কেমন করে কাঁদত। আমার, কাউকে বোঝাতে পারব না । একদিন পার্টি অফিসে গিয়ে খোঁজ করলাম। শুনলাম, সাদিকুল পাটনা গিয়েছেন । কবে ফিরবেন ঠিক নেই । শিরিনের কথা পাটির লোকেদের জিজ্ঞাসা করতে সংকোচ হল । সেদিন আমি ভুল করেছিলাম। ওঁরা শিরিনের খবর জানতেন । এরপর আমার সামনে কেবল মা আর মা ! মায়ের চেহারায় বার্থক্য নেমেছে স্পষ্ট হয়ে হঠাৎই কয়দিনে । মাকে আকবার পাশে বেমানান লাগিত । মনে হত, মা আর্ধেকবয়েসী বাউ । স্বামীর বয়স ডবল । শিরিনকে মনে হত আব্বার মেয়ে। কিন্তু মা এত বুড়িয়ে গেলেন কেন ? বিকাল হলে মা একটা রিকশা করে আমায় সাথে নিতেন। মায়ের চোখে চেয়ে বুঝতাম। উনি Учеe