প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১৩২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যেতে-যেতে রাস্তার ভিড়ের মধ্যে খুব তীক্ষ দৃষ্টি ফেলে কাকে যেন খুঁজছেন । একদিন ভিড়ের মধ্যে কাকে দেখে মা। ‘শিরিন ‘শিরিন বলে চিৎকার করে উঠলেন । সত্যিই তো । শিরিন-মাসি। ভুল করে রিকশা চলার বেগে অনেকখানি মাসিকে ছাড়িয়ে চলে এসেছিলাম । রিকশা থেকে নেমে, আমরা মাসিকে আর দেখতে পেলাম না । তারপর থেকে মায়ের রিকশা চড়ার দম বেড়ে গেল । মা বেশি-বেশি কোরান। আর নামাজ পড়তে লাগলেন । তাছবি গুনতে শুরু করলেন । ছোটো ভাই রাজাকে সাথে রাখতেন । নামাজ পড়ে তছবি গুনে রাজাকে কাছে ডেকে মাথায় ফু দিতেন । গায়ে হাত বোলাতেন। মায়ের চোখে জল ভরে আসত। থুতনিতে হাত রেখে রাজার চোখে ভীষণ করুণ করে চাইতেন । এই দৃশ্য মনের ওপর একটা আশ্চর্য ছাপ ফেলেছিল আমার । বুঝতে পারতাম, শিরিন-খালামায়ের জন্য মায়ের বড় কষ্ট হয় । কিন্তু সেকথা মুখে প্রকাশ করতে পারেন না। আবার ভাবতাম, এই কষ্ট্রেরই কি কিছুমানে আছে ? একদিন আমাদের শহরের এই বাড়িতে কুন্তল এসে আমায় ডাকলেন । কুন্তলকে মা চেনেন না। বললাম-উনি আমার বন্ধুর দাদা । এই বলে পথে নেমে আসতেই কুন্তল বললেন-খোঁজ পেয়েছি, মিনু । শিরিন ভ্যাকড়ি ছাড়িয়ে ওদিকে একটা ব্যক্তিতে থাকে। একটা পাঠশালা খুলেছে। কী দুরবস্থা কল্পনা করা যায় না । সাদিক কেমন হয়ে গেছে। ঠিকমতন ছেলেপিলে পড়ায় না। পাটির কাজে মতে থাকে । স্টপে এসে বাস ধরলাম। আমরা, মিনিট বিশ-পঁচিশ পর বাস ছেড়ে হাঁটা পথ । দুপুরবেলা, গরমও পড়েছে দাউ দাউ । একটা কাঁচা বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালাম ।। ঘর থেকে শিরিন বেরিয়ে এসে মিষ্টি হেসে আমাকে দেখলেন। খুব Roro oś woooor-\ofoit vio ? আমি নিঃশব্দে মাথা নেড়ে হাঁ করলাম। কুন্তল বললেন-মোক্তারামামা বলেছেন, মাড়োয়ারির তালা ভেঙে ঘরে ঢুকতে। লোকটা ফলস লোক । তুমি চলে আসার এক মাসের মধ্যে পালিয়েছে । ঐ তালা আখতার হাজী ফিট করেছে । তোমরা না পার, ছেলেদের নিয়ে গিয়ে আমি ভেঙে ফেলব । মাসি বললেন-gই বাড়িতে যেতে আমার পা সরে না । -পা সরাতে হবে, দরকার হলে, বাড়ি বেচে সেই টাকা কোনো অনাথ আশ্রমে দেবে। তবু দখল রাখবে না, তা হয় না । কুন্তল গজগজ করতে লাগলেন। মাসি নরম করে বললেন-ঠিক আছে । ও আসুক। ৰািলব । কুন্তল গলায় জোর দিয়ে বললেন-বলব নয়। শীগগির গিয়ে দখল নিতে *°8