প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আপনাকে তালাক দিয়েছেন বলছেন, আপনাকে তালাক দিলেন কেন ? শিরিন বললেন-সেটা হাজীই বলতে পারেন । আমার অপরাধ আমি জানি না।--তখন উকিল প্রশ্ন করলেন--সাদিকুলকে আপনি ভালোবাসতেন, অবৈধ সম্পর্ক গড়েছিলেন, এটা কোনো অপরাধ নয় ? হাজী সাহেবের সাংসারিক মান সম্মান সবই তো খুলোয় লুটিয়ে দিচ্ছিলেন । তারপর আপনি একরাতে চুপ করে সাদিকুলখনের কাছে শহরে পালিয়ে গেলেন । এই ঘটনা কি মিথ্যা ? সাদিকুলকে প্রশ্ন করা হল-হাজী সাহেবের বাড়িতে আপনি কিসের আকর্ষণে যেতেন ? একটা পদানসীন বাড়ি । কুলসম আপনার দূর সম্পর্কের বোন, সেই সূত্র ধরে যেতেন । তাই তো ? তারপর ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিল । আপনি শিরিন আখতারকে কানে মন্ত্র দিলেন । শহরে পালিয়ে গিয়ে ঘর বাঁধবার স্বপ্ন, স্বাধীন জীবনের লোভ ইত্যাদি ইত্যাদি । তাই কিনা ! বলুন ? তারপর উকিল গলা চড়িয়ে ‘ইওর অনার’ বলে আদালত কাঁপিয়ে বললেন--শিরিন একটা গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার । কারণ হাজীসাহেবের নামে তাঁর কোন অভিযোগের উল্লেখ আমরা পাচ্ছি না । তাঁর অভিযোগ একটাই, বক্তব্য একটাই, হাজীসাহেব তাঁকে সুস্থ মাথায় সজ্ঞানে পরিত্যাগ করেছেন। কিন্তু এই ঘটনার কোনো সাক্ষী ইহলোকে নেই। কেন তালাক দিলেন, তার উপযুক্ত কারণও ফরিয়াদী পক্ষ উপস্থিত করছেন না। এক্ষেত্রে ধরে নেয়া যায়, উপযুক্ত কোনো কারণ শিরিনের জানা নেই। মুহুর্তের-উত্তেজনায়, সামান্য একটা স্বপ্নের তাড়নায় উনি গৃহত্যাগ করে পালিয়ে গিয়েছিলেন । এই অবস্থায় টিউটোরিয়াল হােমে গিয়ে আপন স্ত্রীর খোঁজ নেওয়া দায়িত্বশীল স্বামীর কাজ বলে মনে করলে অপরাধ হয় না । ঠিক এই সময়, দেখা গেল, শিরিন কাঠগড়ায় অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়েছেন । এইদিন আদালত রায় দিলেন না । দিন পনেরো পর আবার আদালত এই মামলার তারিখ ঘোষণা করলেন । মাকে রিকশায় করে আমি বাড়ি ফিরে এলাম। আগাগোড়া বেশ রঙ মিশিয়ে আদালতের এই কাহিনী ‘ইসলামী দুনিয়া পত্রিকায় সবিস্তারে ছাপা হল । লীগের মুখপত্র এই ‘ইসলামী দুনিয়া’ বাবার পক্ষে এক নির্ভরযোগ্য দোন্ত। প্রথম পৃষ্ঠায় বড়ো-বড়ো হরফে ছেপেছেন, হাজীপত্নী অপহৃত, মুসলমান যুবকের বেইমানি, সাক্ষী কুলসম বিবি । পরের দিন ভোরে বাবা মুড়ি চিবোতে-চিবোতে এই উপাখ্যান পাঠ করছিলেন। একটু আগে কোরান পাঠ করছিলেন। আমি ভকড়ির ব্যক্তির দিকে বেরিয়ে পড়েছিলাম। মা তছবি গুনে রাজার মাথায় ফু দিচ্ছিলেন । বস্তির কাছে এসেই চোখ পড়ল বাড়ির সামনে একখানা ঘোড়াগাড়ি । মালপত্র ওঠানো হচ্ছে। কুন্তল আর সাদিকুলকে দেখা যাচ্ছে। একটু পর শিরিন S\SG