প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


bioso | ওঁরা ফিরলেন । গাড়িতে উঠে কেউ আর কোনো কথা বললেন না। অনেকক্ষণ। কুন্তল একসময় আনমনা বলে উঠলেন-কোর্ট কারো ইমোশন দেখে না । কোর্ট চায় প্রমাণ । গাড়ি এসে শিরিনের বাড়িতে দাঁড়াল। দরজা খোলা হল। ভেতরে ঢুকলাম আমরা । সাদিক বললেন-আমরা চলে যাব, শিরিন । তোমরা দুজনে মিলে সাজিয়ে-গুছিয়ে নাও । পরে কথা হবে । মিনু, তুমি এখানেই থাকে । বিকালে যেও । আমি বিকালে এসে তোমার সাথে কথা বলব। চলো কুস্তল, আমরা যাই। কুন্তল আর সাদিক চলে গেলেন। ঘর গোছানোই ছিল। বাক্সপেটরা থেকে কিছু কাপড়-চোপড় বার করে আলনায় রেখে ফ্যানের হাওয়া ছেড়ে বিছানায় চিত হয়ে পড়ে গেলেন শিরিন । কিছুক্ষণ চোখ বুজে থেকে একসময় চোখ খুলে ফ্যানের ঘুরন্ত পাখার দিকে চেয়ে রইলেন । পবে উঠে কুঁজোয় রাখা বাসি জল খেলেন । এবং পরে বাক্স থেকে একখানা ডাইরি বার করে আমায় এগিয়ে দিয়ে বললেন-পড়ে । দিন বিশেক হল, এই ডাইরি। আমি আবিষ্কার করেছি। ডাইরিতে সাদিক লিখেছেন : কোনো-কোনো ছেলের বিবাহিত রমণীর দিকে আকর্ষণ হয় বেশি । বিবাহিতার দেহ এবং মন দুইই খুব ভেতর থেকে টানে। আমি নিজেকে বারবার এই পরীক্ষা করে দেখেছি। কেন এমন হয়, কখনও বুঝতে পারিনি। বারবারই এই মনে হয়েছে, দেহের রহস্যে বিয়ে-হওয়া মেয়েরা কুমারীদের চেয়ে বেশি ভরন্ত, বেশি গভীর। কুমারী মেয়েরা নিজের শরীরকেই ভালোমতো চেনে না । চেনে না বলেই দেহের ভাষা ব্যবহার হয় না তেমন যুৎ-জাত ও সূক্ষ্ম রহস্যলীন । ফলে তাদের মনের মধ্যে থাকে না কোনো সমুদ্র । সেই মন বড়ো জোর একটি লেজ-নাচানো ক্ষুদ্র পাখি । টি-টি । তাই আমি শিরিনকে দুঃসহ ভালোবাসায় উত্তেজিত করতে চেয়েছি। ক্রমশ । এর বেশি এই ভালোবাসায় কিছুই ছিল না । নইলে একটি গ্ৰাম্য মেয়ে আমায় টানবে কেন ? তার অসহায় দুটি চোখের চেয়ে অসহায় শরীরখানি আমার বেশি ভালো লাগত। ভয় হয়, যদি একদিন এই শরীর আমার আর ভালো না লাগে ! কোনো অবস্থায় এই দেহ যদি আর অসহায় না। থাকে, আমি সেদিনও কি ঐ দেহে রহস্য খুঁজে পাব ? পড়তে-পড়তে আমি বার বার চমকে উঠছিলাম । মাথার মধ্যে সব উলট-পালট হয়ে যাচ্ছিল। আমি মসির দিকে চেয়ে দেখলাম, মাসি আমার মুখ-পানে দুটি অসহায় বড়ো-বড়ো চোখ মেলে নিম্পলক চেয়ে আছেন। Sw©b”