প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঘোড়ার জিহ্বায় মৃত্যুর স্বাদ । যেন জাহেদাই ফিরে এসেছে। বা ভয়ংকর কেউ । ঘোড়া তীব্র চিৎকার করল । খোদার আসমান আর জঙ্গল কেঁপে উঠল । কী অসম্ভব শাস্তি হয়েছিল সেই রাত্রিতে। সুখবাস বলল-কেউ জানে না বউ । কেউ বুঝবে না । মদিনা স্বামীর পিঠে আঙুল বুলিয়ে লিখল-কাফ ফেরে। কাফের। তারপর আঁচল দিয়ে রগড়ে রগড়ে তুলতে থাকিল সিমারের পিঠ। গফুর জেলা, মদিনার বাপ, মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর মনে পরম সন্তোষ আর শান্তি পেয়েছিল । গামছা-বোনা গরিব লোক, গামছা কাঁধে এ-হাট ও-হাট ফিরি করত । এমন কি ওপারে বাংলাদেশে চলে যেত গামছা বিক্রির জন্য । এক দিন শোনা গেল, লোকটি কী এক খেয়ালবশে নিজের বিবিকে সাথে করে ওপারে চলে গিয়ে আর ফেরেনি । সংবাদ এল মদিনার কাছে, মদিনা গুনগুন করে কাঁদল খানিক । তারপর স্বামীকে বলল-ইহজন্মে আমার আর কেউ নেই গো, তুমি ছাড়া । তুমি ফেলে দিলে কোথাও যাওয়ার ঠাঁই নাই। আমায় ফেলে দিও না । তুমি যখন যা চাও, যত কষ্টই হােক, আমি দেব । কথা শুনে সুখবাসের প্রথম বিয়ের ঘটনা মনে পড়তে লাগল। গিয়াসজী যত কথা বলেছিলেন, সব মনে পড়ে গেল। কিন্তু কিছুতেই সে জাহেদার মুখ মনে করতে পারল না । তার সমস্যা হয়েছিল, জাহেদাকে মনে করা । মনে করতে না। পারা । সে চাইছিল, জাহেদাকে মনের মধ্যে স্পষ্ট করে দেখবে । মৃত্যুর পর এতদিন হল কখনো জাহেদা দেখা দিল না । কেন দেখা দিল না ? মনের মধ্যে কোনো ছবি নেই কেন ? সিমার কি কোনো ছবি মনে রাখে না ? নাকি জাহেদা পাক-পবিত্র ছিল বলে, তার নিঃশ্বাসে ফেরেস্তার গায়ের গন্ধ ছিল বলে সুখবাসের কাছে একদিনও এল না ? মদিনা বলল-মনে করার চেষ্টা করে । শান্ত মনে ভাবনা করে । ধ্যান করে । জাহেদা আসবে । একদিন হঠাৎ সুখবাস একটা স্পষ্ট কথা বিচার করতে শিখল। কেন আসবে জাহেদা ? মদিনা বললেই কি আসবে ? লেখাপড়া জানা স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা না-দেওয়া বউ বলছে বলেই কি আসবে ? তার তো দুমুঠো ভাতের জন্য এখন আর পেট কাঁদে না । সে এখন আল্লার কাছে থাকে । তার খিদে লাগে না । আর যখন বেঁচে ছিল, মাটিতে ছিল, গোরের উপর দুনিয়ায় ছিল, তখন তার আশ্রয় দরকার ছিল । গিয়াসজী তার মেয়েকে দিয়ে আত্মীয় হতে চাইলেন কেন ? না, তাঁর কেউ নেই। সইফুল্লা চাকুরি ছিনিয়ে নেবে। তাড়িয়ে দেবে। পথে বসাবে । তাই জাহেদাকে ঘুষ দিলেন তিনি। কিন্তু তারপর ? মদিনাও একটু আশ্ৰয় আর দুমুঠো ভাতের জন্য পাষাণের তলায় পানি S&