প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গিয়াসজীর পাশে চুপচাপ বসে থাকত। পায়ে হাত দিয়ে কদমবুশ (প্ৰণাম) ক’রে সামান্য বেলা হলে বাড়ি ফিরে আসত । মক্তবে পড়াশুনার আর কোনো চাহিদা তার ছিল না । সুখবাস মনে করত, গিয়াসজীকে দেখলে তার কাবা দেখার মতন পুণ্য হয় । সুখ হয় । এইভাবে চলছিল । একদিন সহসা সেই ঘটনাটি ঘটাতে পারল সইফুল্লা । সেদিন দুপুরবেলা জোহরের নামাজের কিছু আগে একবার দেখা করতে এসেছিল সুখবাস। প্রশ্ন করেছিল-কীভাবে জাহেদাকে দেখতে পাব আব্ববাজী ? স্বপ্ন যে দেখি ন্যা ! গিয়াসজী বললেন-পাবে । আমি পাই । কতদিন মেয়ে আমার কাছে আসে। বাবাজীবন ৷ বসে । গল্প করে । খেতে চায় । ভালো ক’রে কোনোদিনই খেতে দিতে পারিনি তো ! খেতে চায় ! দুমুঠি ভাতের জন্য সেই কোন দূব দেশ থেকে সুখডহরি এসেছি বাপ । পরের অন্নে কষ্ট আছে বাপজী । এই দাখো, এতক্ষণও সইফুল্লাব মেয়ে ভাত নিয়ে এল না । ভাবছি, এরপর থেকে তোমাদের বাড়িতেই স্থায়ীভাবে খাব । তোমরা আমার জাযগীর (এক্ষেত্রে আশ্রয) হও । সেক্রেটারির অন্ন ভধানক সুখবাস । আর, চুনতী, মানে সাযরা, সেক্রেটাবিব মেযে, যে আমাকে ভাত দেয় রোজ । ভারি ফাজিল মেয়ে ! খুব সেয়ানা । দাঁড়াও । দেখবে ? কাউকে বলতে পারি না । তোমাকে দেখাই । কী সাংঘাতিক ব্যাপার। গিয়াসজী চৌকির তলা থেকে বাক্স হাতন্ডে সাদা চিরকুট তুলে এনে সুখবাসকে দেখিয়ে বলেন-দ্যাখো, কী লিখেছে ! সুখবাস স্তম্ভিত হযে দেখে, একছত্ৰ কাঁচা হাতের লেখা ৷ 'আমি আপনাকে শাদী করব ওস্তাদজী । ইতি আপনার প্রেমিকা চুনতী।” সুখবাসের চোখ দুটি বড় বড় হয়ে ওঠে । মৌলবী বলেন-দেখছ স্বভাব । কিন্তু সন্দেহ হচ্ছে, চুনতী ও-কথা লেখেনি। কেউ লিখে দিয়েছে। কী মনে করো ? সুখবাসেরও বিশ্বাস হয় না। এ-কথা চুনতী ওরফে সায়রার নয় । পেছনে কোনো গুঢ় মতলব আছে। সুখবাস জানােলা দিয়ে দেখতে পায় সালোয়ার-কামিজ পরে উড়নি উড়িয়ে ঢাকনা ঢাকা ভাতের থালা নিয়ে চুনতী এদিকেই আগুয়ান । সাথে সাথে চৌকি ছেড়ে লাফিয়ে উঠে দাঁড়ায় সুখবাস । বলে-লেখাডা আমার সাথে থাকুক। আব্বাজী ! মদিনাকে দেখাব । পরে চুনতীকে মদিনা ডেকে শুধিয়ে দেখবে । যাই আকবা ? সুখবাস দ্রুত মক্তব ছেড়ে পথে নামে । বাড়িতে এসে কথাটা মদিনাকে বলতে যাবে এমন সময় পাড়ার একটি মেয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে এসে বলে--সইফুল্লার দলগিয়াসজীকে মেরে ফেললে গো! সুখবাস ভাই, দাঁড়ায়ে কর Rà