প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পানি-কামড়ি পোকায় কুটকুট ক'রে জ্বালা করছিল। হাঁটু আদি কাদায় লিপ্ত দেহ । পরিশ্রমে অবসন্ন হয়েছিল সুখবাস। জিভ ঝুলে পড়ছিল । ধোঁকাচ্ছিল ঘনঘন । গরু জোড়াও কথা শুনছিল না । মাঝে মাঝেই বেচাল চলছিল । সব মিলিয়ে সুখবাস তখন ভয়ানক উত্তেজিত । দিশেহারা । বাড়িতে এসে বাহির পালাঙ্গায় (বাহিরের উঠোন) গাড়ি দাঁড় করালো । গা ঘামে জীবজব করছে। চােখে মুখে বুকে ঘামের স্রোত । নিঃশ্বাস টানছে জন্তুর মতো । ডাকিল-মদিনা ? মদিনা আর দাদী দুপুর বেলায় ঘরের মধ্যে রসালাপ করছিল। ডাক শুনে সাথে সাথে উত্তর দিতে পারে না । তখনো ওদের কথার পূর্ণচ্ছেদ হয়নি। ওরা খিলখিল করে হাসছিল। এদিকে ভেতর উঠোনে এসে দাঁড়িয়েছে সুখবাস । দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে। মসজিদে লোক জমে গিয়েছে কল্পনা করতে পারছে সুখবাস । তার ধৈর্য হারিয়ে যেতে থাকে । মনে হয়, এমন অবাধ্যতা করার কথা ধর্মে নাই। মদিনা তাকে যেন পরোয়া করছে না। আবার ডাক দেয় গলা তুলে মদিনাকে । মদিনা তখন দাদীকে হাসতে হাসতে চোখ টিপে গলা চেপে বলে-সিমার এসে গেল দাদী ! দাদী বলে-ও ! সিমার এলো বুঝিনি ! যাও বহিন তৈয়ার হও । ঠাণ্ড করো, যাও ! কথাটা সুখবাস শুনতে পায় । ভয়ানক অবাক লাগে তার । তাহলে কানেব আড়ালে এরা তাকে সিমারই মনে করে । তাকে নিয়ে ঠাট্টা মস্করা করে । গল্প মারে । মনে হতো, ভালবাসে । আসলে ঘূণা করে । ছোটলোক ভাবে । সহ্য হয় না সুখবাসের । বুকের মধ্যে সত্যিই সহসা সেই সিমার, নিবেধি সিমার জেগে ওঠে । কাপড় চোপড় ঠিক ক’রে গুছিয়ে বেরিয়ে আসতে তখনো দেরি হয় মদিনার । সুখবাস ক্ষেপে যায়। সিমার ভয়ংকর হয়ে ওঠে । পায়ে কাদা । গায়ে জ্বালা । গা ধোয়া, পা ধোয়া, গোছল ইত্যাদির কোনো ব্যবস্থাই রাখেনি মদিন । মদিনা বেরিয়ে এসে সামনে দাঁড়াতেই মস্তিষ্ক পশুর মস্তিষ্কে রূপান্তরিত হয় । সিমারের ঘাতক-বৃত্তি চূড়ান্ত সীমায় ওঠে। সুখবাস তার অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ চিন্তা করে না । এক বদনা পানি এগিয়ে দেয়। মদিনা । এক বদনা পানিতে কী হবে ? হাত-পা জুড়োবে ? গোছল হবে ? পানি-কামড়ি নিস্তার দেবে ? অসম্ভব রাগ হয় সুখাবাসের । বলে-তুমি আমাকে ঘেন্না করছি ? --মদিনা অবাক হয় । বলে-কেন ? ঘেন্না করব কেন ? --তাই দেখছি । --না। ঠিক দেখছি না । -ঠিকই দেখছি। তুমি ঘেন্না করো। আমাকে সিমার বুলে গাল দেও । వలి