প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/২৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দিয়ে অদ্ভুত করে নিঃশব্দে হেসে ওঠে। পাগলের মতন। তার কোনাে উপায় থাকে না । কোনো বিচার থাকে না । সমাজ থাকে না । সে ভাবে, সে তো সিমারের ছেড়ে দেওয়া বউ । বড় জোর দোযখের জ্বালানি বই নয় । এইভাবে তিনমাস কেটে যায় । মাচায় একলা কয়েদি অন্ধকারে শুয়ে থাকে । পাতার ফাঁক দিয়ে আকাশের নক্ষত্ৰ চোখে পড়ে । চাঁদ চোখে পড়ে । মনে পড়ে আর এক গভীর অরণ্যের কথা । একটা ঘোড়ার কথা । পাতায পায়ের শব্দের কথা । সব মনে পড়ে । সে কান পেতে থাকে পাতায় কোনো পায়ের শব্দ উঠছে। কিনা !! রাত্রি বেড়ে যায়। ঘুম আসে তার । তখন সে একদিন এক আশ্চর্য স্বপ্ন দেখে । তার তিনমাস পূর্ণ হয়। স্বপ্ন দেখে কেমন এক পাতলা জলের মধ্যে মৃতপ্রায় মাছের মতন একটি মেয়ে ভাসছে। তার একখানা হাত জাহেদার মতন, অন্যখানা মদিনার । সেই জলে নেমেছে সুখবাস । জলের তলা থেকে দুখানি হাত তার দিকে ছুটে আসছে। কী বিচিত্ৰ দুখানি হাত ছুটে আসছে। সুখবাসের পা জড়িয়ে ধরে জলের গভীরে টানছে । পা ছাড়িয়ে নিতে পারছে না । জাহেদা তাকে কোথায় টেনে নিয়ে যেতে চায় ? ভয়ে চিৎকার ক'রে ওঠে সুখবাস । জাহেদাকে দেখল। সে । কী ভয়ংকর !! একখানা হাত মোটা বলিষ্ঠ । অন্যখানা লিকলিকে । ভয়ে সুখবাসের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। জাহেদার লিকলিকে হাত অসহায় হয়ে জলের মধ্যে সুখবাসকে হাতড়াচ্ছে। ভয় পায় সুখবাস । ঘুম ভেঙে দেখে মাচার উপর সে শুয়ে আছে । কেউ নেই। পায়ের শব্দ নেই পাতার উপর। ভীষণ ভয় পায় সুখবাস। মাচা ছেড়ে নিচে নেমে আসে। শুকনো পাতা মাড়িয়ে সেদিন অন্ধকারে চোরের মতন সে গাঁয়ের মসজিদে এসে ওঠে । তারপর গিয়াসজীর পায়ের তলায় লুটিয়ে পড়ে বলে-আব্বাজী ! চমকে উঠে। ফ্যালফ্যাল করে কুপির আলোয় গিয়াসজী সুখবাসকে দেখতে পান । গায়ে হাত দিয়ে সস্নেহে বুকের কাছে টেনে বলেন-তুমি এসেছ ! সুখাবাসের চেহারা ছবি দেখে শিউরে ওঠেন। গিয়াসজী । কেমন শুকিয়ে গিয়েছে, বন্য মোষের মতো স্বাস্থ্য আর নেই। চোখের কোলে কালির পুরু দাগ । সুখবাস বলে-আমাকে ঘরে ফিরিয়ে দ্যান বাপজী ! আমি ঘরে যাব । তিনমাস দশ দিন কেটে গেল । মদিনার একটা বিহিত করেন । সেকথা ভেবেছেন গিয়াসজী । বললেন-কার সাথে শাদী দিই। মদিনার ? কে করবে ? করলেই তো হয় না, দয়া করে ফের তালাক দেবে কিনা তেমন কারুকে S.