প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এই সময় মাথায় পাগড়ি বাঁধা একজন ভিড়ের মধ্যে থেকে ঠেলে এসে গাডিতে এক লাফে উঠে বসে গরু খেদিয়ে দেয়। গাড়ির সাথে চার অনুগামী । সইফুল্লার লোক । গাডি ছাড়বার একটু আগে গিয়াসজীকে জোর ক'রে ছাঁইয়ের ভেতৰ ঠেলে দিয়েছে তারা । চারজন পায়ে হেঁটে । একজন দেদার বক্স মৌলবী । বাকি তিনজন তালবিলিম । তালেবুল এলেম । ছাত্ৰ । গাড়ি চলছে দ্রুত । এক মাইল নিঃশব্দ আসার পর গিয়াসজী চোখ খুললেন । অনুগামীর ছায়া দুলছে। তাদের এখন মানুষ মনে হচ্ছে না। অবাস্তব কিছু মনে হচ্ছে দূরে দিগন্তের দিকে চাইলেন গিয়াসজী । কিছুই দেখতে পেলেন না । কোথায় চলেছেন এই ভয়াবহ রাত্ৰিতে ? বললেন--সইফুলা সাহেব এমন সম্মান ক’রে পৌঁছ দেবেন, ভাবিনি । দিদার বক্স মৃদু গলায় জবাব করেন-জী ! মানীর মান খোদার হাতে । গিয়াসজী বলেন-আপনার সাথে আছেন, ভালোই হল । -কেন ? দিদার জানতে চান । গিয়াসজী কোনো উত্তর করেন না । গাড়ি চলতে থাকে । দেখতে দেখতে এক ক্রোশ পথ অতিক্রান্ত হয় । অকস্মাৎ গিয়াসজী গুনগুন ক'রে ওঠেন । আরবী সূরা । কোরানের সুদীর্ঘ আয়াত ! একেবারে কণ্ঠস্থ। গলা থেকে মন্দ্রসুরে উদগত হয় । মাঝে মাঝে শ্বাসাঘাতে উচ্চকিত হয়ে ওঠেন। তিনি । অনগলিত চিকণ ফোয়ারা অক্ষরে অক্ষরে জড়িয়ে তীব্র বেগে প্রকাশিত হতে থাকে । মুহুর্তে থেমে তিনি নির্দেশ করেন—তুমিও বলে বাপজী ! ঈশা হক । বলো বাপ ! ভীষণ আদুরে অলৌকিক আর্তি ঝরে পড়ে গলায় । ঈশার নাকে মদিনার সুবাসমিশ্রিত শরীরের ভ্ৰাণ ছড়িয়ে গিয়েছিল । মদিনার শরীরের গভীরে পেঁৗছতে বাসনা হয়েছিল । তাকে সহবাসের মরণে কতদূর টানা যায় পরীক্ষা করতে ইচ্ছা! হয়েছিল । সব মিথ্যা হয়ে গেল । মনে হল চাচার কণ্ঠে নবী যেন কথা বলছেন । সুরার সুর সংক্রমিত করল ১৭/১৮ বছরের কিশোর ঈশাকে । সমস্ত পরিবেশ সুরে গুঞ্জনে অপার্থিব হয়ে উঠতে লাগল ! ঈশ এক সময় গুনগুন করতে শুরু করল । কেমন সম্মোহিত হয়ে যেতে লাগিল । সেই আবিষ্ট ভাইপোকে গিয়াসজী নরম সুরে বললেন-তালাক দাও । এক তালাক দাও । আমরা এক ক্রোশ এসেছি । ঈশা হাক তন্ময়তার মধ্যেই বলে উঠল-তালাক ! তারপরই আবার কোরান পাঠ ক’রে যেতে লাগল। দিদার বক্স অর্থাৎকে উঠলেন । বললেন-এ কী WS