প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিকে দিয়ে সাথে সাথে ছাড়িয়ে নিয়ে ফের হামিদুলের সাথে নিকাহ দিন । কিন্তু শিকদার আসল সুগ্ৰী, তিনি তা শুনবেন কেন ? রুস্তম বললে, সবই ঠিক । শিকদারের কথা মতোই তো কাজ হচ্ছে । পান থেকে চুন তো কোথাও খসে নি। নিন শুরু করুন । খতিব সাহেব শুরু করলেন, গাজীপুরনিবাসী তৈমুর মণ্ডলের কন্যা রাবেয়া খাতুনের সহিত দুটাকা বাষট্টি নয়া দেনমোহরে উক্ত গ্রামবাসী আলামৎ সেখের পুত্র, তুমি মামুন রহমান-ইত্যাদি । মন্ত্র পাঠ শেষ হলে, খতিব বললেন, নিকাহ সুসম্পন্ন হয়েছে। এবার আমি উঠব । কিন্তু হ্যাঁ, ওহে মামুন সাহেব, তোমার সাথে গোপনে আমার দুটি কথা আছে । বলেই তিনি আউড়ে উঠলেন-‘হাত্তা তিন কি হা জওয়জন গাইরা হু-অৰ্থাৎ ইহাতককে দুসারা জওজাকো কবুল না করে তব তক আওয়াল জওয়জ জায়েজ না হোগা ।” মৌলানা মুহম্মদ আবু শরীফ সাহেব । হাত্তা তন কি হা জওয়জন গাইরা হু-অৰ্থাৎ- । পাশের ঘরে এলাম । খতিব সাহেব ঢুকলেন বললেন, এটাই হচ্ছে আসল খবর মিয়াজন । হামিদুলের সাথে রাবেয়া যেরূপ স্ত্রীর স্বাভাবিক আচরণ করেছে, ঠিক সেরকম অনুরূপ ব্যবহার তোমার সাথে করবে । অন্তত একটি রাত্রিও একই বিছানায় তোমাদের শুতে হবে, সহবাস করতে হবে । বললাম, জানি, তবেই নিকাহ সিদ্ধ হবে, ইন্দতের ষোলকলা পূর্ণ হবে । খতিব সাহেব মোলায়েম হেসে উঠে বললেন, এটাই হচ্ছে আসল খবর মিয়াজান ! চলি ভাই ! শর্তটা তোমায় বুঝিয়ে দিয়েছি, এবার চলি । ফের তিন মাস দশদিন বাদে দেখা হবে । চল হে রুস্তম, ভোর রাত নাগাদ নিশ্চয় আমরা গাজীপুর পেঁৗছে যাব । চল, আর তো দেরি সয় না। ওহে হামিদুল, তোমার কোনো কথা থাকলে চট করে সেরে নাও ভাই ! আর হ্যাঁ তিনমাসেতিন । এই ফরমুলাটা মনে রেখো মামুন সাহেব ! ফরাজী তুমি । আহলে হাদিস । চলি ? মিঠে হেসে ঘাড় কাত করলেন খতিব । হামিদুলের বিদায় আসন্ন হয়েছে। বিছানায় লুটিয়ে পড়ে রাবেয়া ফুপিয়ে ফাঁপিয়ে উঠছে, এ এক আশ্চর্য দৃশ্য । হামিদুল বললে, আমার ঐটাে-চুক খেতে তোর কখনো আটকাত না জানি । 8.