প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাথে তোমার বিয়ে হচ্ছে না । গাঁয়ের লোক এক রকম স্থির করেই ফেলেছিল--- রাবেয়া বাধা দিয়ে ‘বাদ দাও ওসব কথা-বলেই উঠে দাঁড়ালো । বললে, এতক্ষণ জল দেওয়া হয়েছে, চল স্নান করবে, চল । আমিও উঠে পড়লাম । খেতে বসে ফের সেই অতীত জীবনের স্মৃতিকে টেনে টেনে তুলতে লাগল দিকে চোখ ফেরানো । সে তলিয়ে যেতে চায় আমাকে নিয়ে, কিন্তু গহনে নামতে ভয় পায়, তার যেন দিম আটকে আসে । সে আমাকে পাতালের দিকে ঠেলে দিয়ে ভোঁস করে স্মৃতির উপরিভাগে জেগে উঠে নিশ্বাস টানে। তখন আমি গভীর সমুদ্রে, বড় এক মনে হয়। তার এই অদ্ভুত স্মৃতি-চৰ্চার জন্য তাকে রহস্যময় এবং নিষ্ঠুর মনে হয়। এই ভাবেই স্মৃতি-কণ্টকিত অস্থায়ী দাম্পত্য জীবনের দিন-রাত্রিগুলি প্রবাহিত হয়, দ্রুত এবং স্বস্তিহীন, কখনো বা মধুর এবং স্বপ্নমাখানে । দিন যত ফুরিয়ে আসে, আমি তাত অস্থির হয়ে উঠি । তিন দাম্পত্য জীবনের মিঠে-অম্নমাদক রসে এক ধরনের স্বাস্থ্যকর অনুভূতি আছে, বিশেষ যখন ভালোবাসার রূপবতী কন্যাটি দিনরাত আমারই ভালোমন্দের হিসেব নিয়ে ব্যস্তসমস্ত হয়ে রয়েছে । টুকিটাকি গৃহের আসবাব, চা-চামচ, চিনি, টুথপেস্ট, চিরুনি, এমন কি একটা সোয়েটারের উলের বল এই সব অতি তুচ্ছ আয়োজন দিয়ে রাবেয়ার গৃহিণীপনার আর্ট যে রকম পাল্পবিত হতো, বালিশের ওয়াড়, টেবিলের নকশা তোলা ঢাকনা-চাদর, ধনে-মোরীর ভাজা মসলার ছোট্ট কীেটোটির সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার পরিচ্ছন্নতা, আমায় বিস্মিত না করে পারেনি । গৃহিণীর গভীৰ্য আর প্রসন্নতা, স্ত্রীর আদুরে গলার নানা ভাববাচ্যের সম্বোধন এবং আবদার, সমস্ত ক্রিয়া-বিক্রিয়ার মধ্যে কোথাও কখনো জল্লাদ-রূঢ় ভােব দেখতে পাইনে । একদিন বললে, সোয়েটারটা এই বেলা শুরু করে দিই, সামনে শীতে গায়ে পারবে তুমি, আমি তখন আর থাকব না। আমার হাতে-বোনা সোয়েটার থাকবে । একটু একটু বুনে তুলব। রোজ, পাখি। যেমন নারকেল গাছে উল্টো কুঁজোর মতো বাসা বুনে তোলে। বাবুই পাখির নামটাও চমৎকার! কিন্তু বাসটি ᏳᎩ