প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হামিদুল ? সে তবে তোমায় ঈষা করত কেন ? ঈষাই শুধু নয় । সে তোমায় ভয় করত । -७ १ अभि eiन कलेि ! রাবেয়া বললে, হ্যাঁ ভয় । সে ভয়ের কথা অন্য সময় হবে । কলেজ থেকে এলে, দুটাে কিছু মুখে দেবে তো । তোমার মুখটা ভীষণ শুকনো দেখাচ্ছে। চল, ওঠ এবার ! হাত-মুখ ধুয়ে নাও । জকে জল রয়েছে। বললাম, সে না-হয় হলো। কিন্তু সে আমায় ভয় করতে যাবে কেন ? বরং আমিই তো তাকে ভয় করতাম ! ঐটা-চুক আম-পেয়ারা হাতে তুলে দিয়ে বলত, ধরে থাক মামুন । খাস নে ! আমি তাই ধরে থাকতাম। রাবেয়া উলের বল কাঁটা একটা ছোট্ট চামড়ার ব্যাগে ঢুকিয়ে রেখে এ ঘরের তাকে তুলে রাখতে রাখতে বললে, বরাবরই তার একটা তোমার উপর জোর ছিল । তোমার উপর বলেই নয়, জোর তার নিজস্ব মনের । তার কোনো কাজে কখনো দ্বিধা ছিল না এবং অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনাও ছিল না । সেই জোরেই সে আমায় দখল করে নিল । তুমি চিরকাল তার জোরকে প্রশ্ৰয় দিয়ে গেলে । মঃ জাের করেই সে আমায় তােমার ঘরে তুলে দিয়ে গেল, তুমি তাকে প্রায় --না । সে জোর করে দেয়নি । বিশ্বাস করে দিয়েছে । --তুমি বল বিশ্বাস আমি বলি জোর, যা দিয়ে সে তার মনের লোভ। বাসনা, হীন আকাঙক্ষাকে স্যাটিসফাই করে। আর এ কারণেই তোমাকে তার জীবনভর প্রয়োজন । বলতে বলতে রাবেয়া ঘর পেরিয়ে ভেতর বারান্দায় চলে গেল । ডাক দিল সেখান থেকে হাতে জাক তুলে নিয়ে-নাও এস। পানি ঢেলে দিই। ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম । কেমন আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম । খেতে বসে বললাম, তবু বলছি সে আমায় ভয় করত ! তবে সে জোর করত কোন সাহসে ? রাবেয়া বললে, সাহস নয় মামুন ! ভীরুতা, দুর্বলতা। পরাজিত হওয়ার ভয়, হারিয়ে ফেলার ভয় । তাই সে বলত, ধরে থাক মামুন ! খাস নে ! আমি চমকে উঠলাম, গলায় খাবার আটকে গেল, আর খুক খুক কাশি শুরু হলো । তাড়াতাড়ি রাবেয়া জলের গেলাস সামনে এগিয়ে দিয়ে হাত-পাখার বাতাস দিতে দিতে মাথায় মৃদু মৃদু হাতের তালুর চাপড় দিলে, ফু দিলে টেনে টেনে, যেমন সে ছেলেবেলায় করত। খাওয়া শেষ করে মুখশুদ্ধির মীেরী মুখে ফেলে শিখ করে খাওয়া সিগারেট ধরলাম । বিছানায় কত হয়ে আধ-শোয়া ভঙ্গিতে টান দিলাম সিগারেটে । রাবেয়া এসে আমার কোলের কাছে বিছানায় বসল ।