প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিঃসঙ্গ, ঘুমিয়ে কাটানো কিংবা বইপড়া আর উলের বল কাঁটা, এতে মনটা তো খী খাঁ করবেই । রাবেয়া বলেছে, তিন মাস তোমার এই ঘরে হাজত-বাস করছি, ছুটি কয়েদির মতো কোথায় পালাব ? বিনে সুতোয় তিনি কথায় যতটুকু বাঁধবার বেঁধেছি, ফের যেদিন তালাক দিয়ে ফিরিয়ে দেবে, এই সুন্দর খাঁচা ছেড়ে উড়ে যাব। আর এক পিঞ্জিরায়, মেয়েদের কোথাও মুক্তি নেই! বলেছি, মনেরও কিছু আলো বাতাস চাই, রাবেয়া । এখানে একটা চমৎকার কবিতার মতো নদী আছে । দেখেছি ? রাবেয়া খুশি হযে বলেছে, দেখিনি ৷ আভাস পেয়েছি। এই জানলাটায় চোখ রাখলে একটা ঝলক আসে, গন্ধ পাই । চিতি । সত্যিই বডড মিঠে নাম নদীটার । -ইয়েস ! ভেরি সুইট ! যাবে ? -গাঁয়ের মেয়ে আমি, নদী কি দেখি নি ? রাবেয়া কথা বলে । --দেখেছি বলেই তো গন্ধ পাও, ঝলক পাও । চোখ জুড়াবে তোমার । একঘেয়েমিও কাটবে। কোথাও গেলে না, চল, এটু নদী দেখে আসি ! { সেদিন রাবেয়া রোজকাব মতো জানলার আধ-খোলা কপাট পুরো খুলে উদাস হয়ে চিতির পলিজল মেশানো তটভূমির দিকে চেয়ে তন্ময় হয়ে বললে, যাব ! তার পর পেছনে ফিরে বললে, শহরে শুনেছি, অনেক মেলা-খেলা হয় ! কিন্তু মনের মধ্যে কোথাও কোনো উৎসাহ পাই না । তোমার কি মনে হয়, আমরা দুজন আত্মগোপন করে আছি ? তুমি তো সব সময় চোরের মতো থাক । একটা কথা খুব জানতে ইচ্ছে করে । -কী কথা ? রাবেয়া মুচকি হেসে জানলা ছেড়ে সরে আসে । বলে, তুমি রাগ করবে না ? বললাম, রাগ কেন করব ? রাগের কথা বললে নিশ্চয় করব । -এই তো ! আগেই তুমি রেগে উঠেছ। তবে থাক। আরো দুদিন ভাবতে The বললাম, মিছেই কেন দুঃখ পােচ্ছ ! আগে বলই না শুনি ? রাবেয়া বললে, আগে কথা দাও । তুমি রাগ করবে না ? রাগের কথা হলেও রাগবে না । গা ছুঁয়ে বল ! --বেশ তো ! কথা দিলাম । এবাৰ বল | রাবেয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললে, সত্যি করে বল, তোমার এই জীবন ভালো লাগছে ? -6कान् शैदन ? tà