প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৭৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হাওয়া হয়ে গেছে। যত দ্রুত হয় পায়ে হেঁটেই ওকে ধরতে হবে । কলেজে গিয়ে নিশ্চয়ই আমার খোঁজ করবে । ছুটিলাম । কলেজের চৌমাথায় এসে হামিদুল বাঁয়ে ঘুরল। এ পথে কেন ? কোথায় যাবে ? ও নিশ্চয়ই আমাকে দেখেছে, নইলে এত জোরে ছুটছে কেন ? সে কি আমাকে দেখা দিতে চায় না ? অভিমান ? লজ্জা ? অপরাধবোধ ? ছুটতে ছুটিতে কম পথ আসা হলো না ? এদিকে চিতির রাস্তা। চিতির ওপারে কোথায় যাবে হামিদুল ? কেন যাবে ? ফুলমতির কাছে যাবে কি ? কেন ? নাহ্! ভাবা যায় না । ভাবা ঠিকও না । কিন্তু ও কেন বুঝছে না, আমি ওর পিছু পিছু ছুটে আসছি। ! ছুটিতে ছুটতে আমি চিতির কিনারায় এসে পড়লাম । ততক্ষণে হামিদুল নীেকোয় চেপে নদীর মধ্যভাগে চলে গেছে। ডেকে উঠলাম, হামিদুল ! হামিদ ! হামিদুল সাড়া দিল না। ওপারে নীেকো থেকে নেমে ফিরেও চাইল না । হামিদুল কেন এ রকম করলে বুঝে পাইনি। ফিরে এলাম বাড়ি । আমার মনের প্রকৃত অবস্থা কারোকে বলে বোঝাতে পারব না। কেউ ঠিক বুঝবে না। হামিদুলের সাথে আমার কত যে কথা ছিল, হামিদুল শুনল না কেন ? বাড়িতে ঢুকে দেখলাম, রাবেয়া ঘুমিয়ে রয়েছে আমার খাটে । বালিশের পাশে সেই ফোটােটা। ঝুকে পড়ে দেখি, হামিদুল নয়, এটি একটি বাচ্চার ছবি । আশ্চর্য এক বিমূঢ় বোধ আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। ছবিটা হাতে তুলে নিয়ে চেয়ে দেখলাম ! হঠাৎ রাবেয়ার চোখ খুলে গেল । কিছুক্ষণ আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে বালিশ থেকে মাথাটা আমার কোলে তুলে দিয়ে দু হাতের আবেষ্টনীতে আমার কোমর জড়িয়ে দুই চোখ বন্ধ করে নিঃসাড় হয়ে রইল। এমনই শক্ত করে চেপে ধরেছে! মনে হলো, সে কিছুতেই নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে পারবে না । সে এতক্ষণ আমারই মুখ মনে করে চোখ বুজে কাঠ হয়ে পড়ে छिल्ल । মাথার চুলে আঙুল ডুবিয়ে রাবেয়াকে মুদৃস্বরে ডাক দিই। রাবেয়া “উহু’ বলে পাতলা সাড়া দেয় । বুঝতে পারি, রাবেয়া উঠতে পারছে না । চিতি থেকে ফিরে এসে আমায় ভালো করে কথা বলেনি। অন্যমনা উদাসীন হয়ে কোথায় নিজের মধ্যে নিবাসিত হয়েছে। মৃত পুত্রের স্মৃতি আকড়ে আছে। ডাকলাম, উঠবে না। তুমি ? -डैश् ! -ऐeठेहद ना ? কোনো কথা নেই। চোখ খুলে মেঝেয় নিম্পলক চেয়ে আছে। ওর মাথাটা ዓ¢