প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


খতিবের খাওয়া শেষ হয়ে গেছে। চা এল । চায়ে চুমুক দিলেন তিনি। তাঁর মুখের দাড়ির দিকে চেয়ে চেয়ে দেখছিলাম। স্বগীয় বিভূতি উৎসারিত হচ্ছে। নিম্পাপ সারল্যের পেছনে সাপের মতো চেরা জিভের লকলকে ছায়া ভাসছে যেন । এদের মুখে অশ্লীল কোনো কথাই আটকায় না । মুসলিম নারীদের নিয়ে ফতোয় দেয়ার কুটিল ব্যবসায় এদের সুখ্যাতি প্রচুর । এদের উপর সমস্ত আক্রোশ নিশ্বফল হয়ে যায়, বার বার এরা জেতে । কেন জেতে সমাজ তা জেনেও কিছুই করতে পারে না ; আমাকে এই লোকটি ফাঁদে ফেলে বেঁধেছে। হামিদুলকেও খেলিয়ে নিয়ে ফিরছে। শিকদারকে নাচাচ্ছে। শিকদারও আপনি মহিমায় নেচে চলেছেন । আর এদিকে আমার খেয়ালই ছিল না, আমি ফরাজী, আমি একই মুহূর্তে তিন তালাক দিতে পারি না। রসূলের হাদিসে নাকি এক সাথে তিন তালাকের সমর্থন নেই ; থাকলেও কোথায কেমন হয়ে রয়েছে, তার ফতোয় আমার মতো মুখ অধ্যাপকের জানা নেই। আমি আসলে নেমকহারাম নই, এই সুবাদে আত্মহননো লিপ্ত হয়ে নিজেকে খুঁড়ছি আর মন্থন করছি ব্যথিত হৃদয়, বিপন্ন করছি নিজেকে নিজে । পথে নেমে এসে খতিবকে একটা পান দিলাম কড়াগুণ্ডি মসলার। মুখে পুরে পিচ করে পিক ফেললে শরীফ সাহেব । থুতনির দাড়িতে পানের পিকের পোচ লেগে গেল । শুধালো খতিব-তা হলে, আমরা কবে আসব ? —আপনি নিজেই জানেন। আপনাকে কবে আসতে হবে। আমি ফরমুলা মতো কাজ যদি নাই করতে পারি, তবে তার শুদ্ধি হবে কী ভাবে, তাই ভাবছি । আর ভাবছি, পরকালে কুলখতমের খানাপিনার হালটা কেমন হবে ? সেখানে শুনেছি পুরুষ-প্রতি ৭০ জন। হুরীর বরাদ্দ থাকবে । সেখানকার ইদাৎটাই বা কোন ফরমুলায় পালন করা হবে !! একজন জান্নাৎবাসীর জন্য কী অঢেল আয়োজন, ভাবলেই তাক লাগে । পরকালে সত্তরজন হুরী আর ইহলোকে স্বামীর পদতলে লুষ্ঠিত হচ্ছে স্ত্রীর বেহেস্ত । একজন পুরুষের বিস্ময়কর সেক্স-অ্যাবিলিটি, পশুর চেয়ে বীভৎস । সত্তরজন হুরী । অন্সরী । ভয়াবহ কামবিকার, মাফ করবেন খতিব, এত অশ্লীল কথা । বলেই চলেছি আপনি খেয়ালে, হঠাৎ খেয়াল হলো, গাজীপুরী মোল্লা উধাও হয়ে জনস্রোতে হারিয়ে গেছেন, তাঁর ফরমুলাটা আমার আরো নিখুঁত করে বুঝে না নিয়ে এভাবে চটিয়ে পটিয়ে তাড়িয়ে দেয়া বোধ হয় ঠিক হলো না । ফাঁদে পড়েছি, ফের আহামকী হলো ! পায়ে পায়ে আবার হাঁটতে শুরু করলাম । এদিকটায় কখনো আসি না । ዓ $