প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৭৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পুরাতন বাজার। এদিকে । সোনাপট্টির মার্কেট । ছাগল গোরুর হাট ৷ পাশেই মেছো বাজারের মোড় । আরো খানিক গেলে সবচেয়ে পুরাতন প্রেক্ষাগৃহ উদয়ন । তার পাশে ওমেগা প্রেস । ঠিক এইখানেই একটি উলের দোকানে দাঁড়িয়ে ও কে ? হামিদুলই তো ! কী করছে ? উল কিনছে ? হাতে সেই পলিথিনের ব্যােগ । কেমন উসকো-খুসকো চেহারা । তবে কি ওরা দু জন এক সাথে এসেছে ? হামিদুল উলের দোকান ছেড়ে রিকশায় চড়ল। আজ ওকে কিছুতেই হারাতে পারি না । একটি রিকশা ডেকে নিয়ে দ্রুত লাফিয়ে উঠে পড়ে বললাম, সামনের রিকশাটিা দেখছি ? -কোনটা ? -ঐ যে সবুজ কাপড়ের ডালা তোলা, আটশো কত যেন নম্বর । -খলিলের গাডি ওটা । || itii Obilس খলিল অনেক দূর এগিয়ে গেছে নিমেষে। হামিদুল নিশ্চয় আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে কেন বুঝছে না, তাকে আমার কত প্রয়োজন । তাড়াতাড়ি চলো ভাই । টেনে চলো একটু । রিকশা আবো তেজে হাঁকিয়ে চলল রিকশা-আলা । পাঁচ রাহার মোড়ে এসে লোকটি রেস্ট্রি অফিসের দিকে এগিয়ে গিয়ে একটি গলির মধ্যে ঢুকে গেল । আমাকে ঢুকতে হলো গলির মধ্যে । এ গলিটা তো নাকড়তলা আর লাটাইপুরের চৌমাথায় গিয়ে শেষ হয়েছে, তার পরেই তো বালির ঘাট । যাবে কোথায় হামিদুল, ওপারে দুর্লভপুরে তার কোনো আত্মীয়-টাস্ত্রীয় আছে কি ? কিনছে। পেছন থেকে নিঃশব্দে এগিয়ে গিয়ে ডাকলাম, হামিদুল ? ঘুরে দাঁড়াল সে। কিন্তু একি ! কার পেছনে এতক্ষণ ছুটে মরছি আমি ? এসব কী করে বেড়াচ্ছি পাগলের মতো ? এতটা বিভ্ৰমে পড়ার কারণ কী হতে পারে ? এ যে অন্য লোক, একটুও কেন ধরতে পারি নি ? পেছন থেকে দেখতে এত হুবহু মিল হয় কী করে ? মনে হলো, আপন মনের ছায়াকে দেখে ভয় পেয়েছি। আমি । গায়ে ঘাম দিচ্ছে । গলা শুকিয়ে গেছে । পেছন থেকে দেখতে হামিদুলের মতো কোনো একটি লোক পৃথিবীতে আছে, যে আমার মনের ছায়ার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে বাদব খেলার ভিড়ে, উলের দোকানে, গলিতে মোড়ে চীেমাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি তাকে কী বলতে চাই ? কী কথা আছে, তার সাথে ? দেখ হামিদুল, তুই কি সত্যিই আর রাবেয়াকে চাস না? শিকদার তোকে কি বলে কনভিকস করছে ? তোর নিজস্ব কোনো অভিমত নেই ? যে-রাবেয়াকে ክምCo