প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৮১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


না । রাবেয়া অনেকক্ষণ আমার কাছে এল না । যখন এল, দেখলাম, চোখ দুটো ফোলা, অসুস্থ হয়ে উঠেছে। মেঝোয় সাপ বিছিয়ে বসল। রাবেয়া । হাতে প্রায় বুনে শেষ হয়ে আসা সোয়েটার, বল-কাঁটা, পাশে ছোট চামড়ার ব্যাগ। বুনতে শুরু করল। চেয়ে দেখতে দেখতে কেমন মায়ায় আপ্লুত হচ্ছিল মনের তাবৎ পটভূমি । তালাক দিলাম। যে তালাককে এতটুকু সহ্য এবং বিশ্বাস করতে পারি না । আমাকে সেই অশুদ্ধ শব্দের নাম মুখে বলে একটা পাষাণ ভার নামাতে চাইলাম কেন ? কেন মনে হলো, রাবেয়াকে আমায়। এইভাবেই ত্যাগ করতে হবে ? রাত বাড়তে লাগল। রাবেয়া কোনো কথা না বলে বুনে যাচ্ছে আপন মনে নির্বিকার। বাইরে প্রস্ফুটিত দুধেল জ্যোৎস্না । শূন্য আকাশে গেথে আছে। শরতের চাঁদ । বললাম, আমি হামিদুলের পয়সায় মানুষ হয়েছি, এই কৃতজ্ঞতায় মনটা আজ ভরে গেছে, রাবেয়া ! বাবেয়া অবাক হয়ে মুখ তুলল। একবার। একটুখানি হাত থেমে গিয়ে আবার চলতে লাগিল । কোনো সাড়া দিল না । বললাম, সারাটা দিন আজ কি যে হলো, পাগল হয়ে গেলাম । একলা একলা কোথায় যে ছুটে ছুটে গেলাম ! —কেন এমন হচ্ছে, মামুন ! কিসের যেন কষ্ট পােচ্ছ! আমাকে খুলে বল, আরাম পাবে । আমি সব সইতে পারব । --সওয়া না সওয়ার কথা নয় । আমি যা বিশ্বাস করি না। আমাকে তা করতে হচ্ছে কেন ? --ভালোবাস বলে ! কারো কোনো খাতিরে কিছু করনি তো ! করেছ ? ভালোবেসে মানুষ তো এ রকমই দুঃখ পায় । তুমি হামিদুলকে ঘূণা করলেও 930N5 ! -আমার এখন ঘূণা করতেই ইচ্ছে হচ্ছে। সে আমার সাথে একবার দেখা করতে কি পারে না ? -বুঝেছি, হামিদুলের জন্যে মন খারাপ । সে তো এল বলে। --তোমার মন খারাপ হয় না ? শুধালাম আমি । -এখন আমার কি হয়, কি হয় না, কিছুই বুঝতে পারি না । কেবল বুঝি, একটা পাঁকে পড়ে তলিয়ে যাচ্ছি, তুমি আমাকে টেনে টেনে তুলতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আর আজ স্মরণ করিয়ে দিলে, আমাকে ফিরতে হবে, তুমি আর পাক ঘাঁটতে পারছিনা। তালাক শব্দটার প্রকৃত মানে যে কী মমন্তিক হামিদুল যখন তালাক দেয় বুঝতে পারি নি, আজ বুঝলাম । এবং আশ্চর্য হলাম, তুমি