প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৮৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


-ইহ্ ! মেহেদি-রাঙানো হাতের স্বপ্ন কোন পুরুষ না দেখে যৌবনের দিনে ! -সে স্বপ্ন তোমার পূর্ণ হলো না । --বলতে পার চিরদিনের মতো ভেঙে গোল -(कन्म ? द्विन्मि 6क* ? --আসলে এ ব্যাপারে আমার আর্ব কোনো স্বপ্ন দেখাই চলে না । -দুঃখ করো না মামুন ! আজি অন্তত সুখী হও । --তাই হোক । ফুলের প্যাকেট থেকে ফুলেব গন্ধ এসে নাকে লাগে । আমি চুপ করি। বিদ্যাসাগরের মূর্তির পাদদেশে চৌমাথায় একটি বিকশা দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেখানে এসে রিকশায় উঠে পড়ে বললাম, কালীবাডির পর্কে গিয়ে বসব দু-দণ্ড । চলো । রাবেয়া কিছুটা ইতস্তত করে উঠল রিকশায় । পাশে বসে কোলের উপর প্যাকেট-ফ্যাকেটগুলো গুছিয়ে রাখলে ৷ কপালের পাশে চোখের উপর চূৰ্ণ চুলের এলোমেলো ছড়িয়ে থাকা উদাসীনতা । কপালে রক্তাক্ত টিপ । হাতে মেহেদি, পায়ে গাঢ় রঙের আলতার ছোপ | বাসন্তী রঙের শাড়ি । সবই কেমন এক পরিপাটি ব্যাপার । রাবেয়া সজোগুজে কলেজে চলে এল । এভাবে কলেজে আসা তার কথা নয় । কোথায় এক অস্বাভাবিক দৌরাত্ম্যের ইচ্ছে ঝলকে উঠছে তার রূপে, মুখের উপর ভাসছে খুশি খুশি কুচি ঢেউ । হঠাৎ রিকশা থেকে নামার সময় ঝনাৎ করে একটা শব্দ হলো । পার্কে বেঞ্চে বসার সময় আর একবার। রাবেয়ার আঁচলে বাঁধা চাবির গোছা। সবই অদ্ভুত । সবই গোরস্তালীর চমক । ঠাট-বাটের নিখুঁত পালিশ লাগানো। ঘরণী যেন তার ঘরকে সঙ্গে এনেছে, যেখানে যাবে ঘর তার সঙ্গে যাবে } বললাম, এতগুলো চাবি নিয়ে ঘুরছ! কোথাও যদি পড়ে যায় ? -পড়লেই হলো আর কি ! সব সময় শব্দ পাই । সব সময় মনে হয়, আমার ঘর আছে। স্বামী আছে। আমি ঘরণী । আমি গৃহিণী। আমার অনেক ব্যস্ততা, অনেক কাজ । --বাঃ । গোলােভরা ধান, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, এরকম একটা সংসারেই তো ছিলে তুমি, কিছুদিনের জন্য সে সংসার তোমার হারিয়ে গেছে। সেই সোনার সংসারকে আবার ফিরে পেতে ইদাতের কঠিন তপস্যা করছি তুমি । তোমার তপস্যা নিশ্বফল হতে পারে ? --তাই কি হয় নাকি ? কখনো না । আমার সংসার আমারই । আমার r