প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৮৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সিংহাসন খালি পড়ে আছে । কেবল দু দিনের জন্য অন্যের সংসারকে সাজিয়ে-গুছিয়ে দেখালে, দেখ, সংসার কত সুখেব, এই তার সৌন্দর্য ! লোভ জাগিয়ে তুলে পালাবে এবার । --যদি না যাই ! যদি থেকে যাই ! এই চাবিগাছা যদি চিরকাল আঁচলে বাঁধি ! তুমি তাড়িয়ে দেবে না তো মামুন ? চুপ করে থেকে না । উত্তর দাও । বললাম, তুমি কেবল সাজাতে এসেছি। থাকতে আস নি । এ সংসার তোমার নয়। আমারও নয় । এ কোনো গাৰ্হস্থই নয় । এটা তার গল্প মাত্র । এ গল্প তুমি আমাকে, আমি তোমাকে শোনাচ্ছি । গল্পের সংসার দেখে বাস্তবের সংসারকেও DD D rB D S --যায় নাকি ? এ সংসার দেখে, তুমি বলতে পারো, হামিদুলের সংসার কেমন ছিল, ভবিষ্যতে কেমন হবে ? -পারি না । বললাম একটু চুপ করে থেকে- সে সংসার তোমাদের, তোমরা যেমন করে সাজিয়ে তুলবে, তেমনিই হবে । আমি বলব সুখে থেকে । জীবনকে অপমান করো না ! --আশীবাদ করছি ? --কামনা করছি । -(3 p. -ஸ் நிேகு --কেবল উচিত বলে ? আর কিছু নয় ? --আর কি ? -আর কিছু নয় ? স্রেফ উচিতের পেছনে ছুটছ তুমি ? --তোমার পেছনেও ছুটছি। আমিও শব্দ শুনি । ভালো লাগে । চাবির শব্দ । মেহেদির রঙ ! --তুমি বোকা ! বোকা ! বোকা ! স্রেফ বোকা । বলতে বলতে রাবেয়া আমার কোলের পাশে থেকে কত হয়ে মুখ গুজে মৃদুস্বরে ডুকরে কেঁদে উঠল । ওর পিঠে হাত রেখে ডাকলাম, রাবেয়া ! কেঁদো না ! কেঁদে কোনো লাভ নেই । --তুমিই তো বার বার আমাকে কদাচ্ছি। রাবেয়া একটু ফুসে উঠে মুখ তোলে । তার পর আবার মুখ ওঁজে দেয় । এইভাবে বসে থাকতে থাকতে কান্না স্তিমিত হয় । হঠাৎ কেমন এক লোভ জাগে । বুঝতে পারছি, রাবেয়া গাজীপুর যেতে চায় না। আমি ওকে ত্যাগ করতে নাও পারি। ও চায় আমি ওকে ছিনিয়ে নিই। হামিদুল একদিন সুযোগ বুঝে ছিনিয়ে নিয়েছিল। আজ আর এক সুযোগে আমি ম্যাচ করলাম। সে দখল করেছিল, আমি তাকে উচ্ছেদ করলাম। অন্যায় কোথায় ? হামিদুল আসবে। o