প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শূন্য টাঙ্গা ফিরে যাবে। রাবেয়া বলবে, আমি হামুর ভাত খাব না মামুন ! আমি তোমার ভাত খাব ! ঘটনা কি অস্বাভাবিক হবে ? হামিদুলের চোখের কোেনা কি চিকচিক করে উঠবে ? বুকে ব্যথায় টান ধরবে ? আমি বলব, রাবেয়া তো আমারও । তুই বলেছিস ! আমি তাকে নিলাম ! হামিদুল বলবে, তুই যে বলেছিস মামুন ! যে দুঃখ সইবার জো এবং যোগ্যতা আমার নেই, নিজের দোষে আমি সেই দুঃখকে বরাবর বহে এনেছি। আমি এ দুঃখ সইতে পারি, তুই বল ? -কী ভাবিছ গো ! রাবেয়া সহসা উঠে বসে প্রশ্ন করে । আমি চমকে উঠে। রাবেয়ার মুখের দিকে চেয়ে দেখি। কান্নার পাতলা করুণ ছায়ায় সন্ধ্যা নেমেছে ওর চোখে । এতক্ষণের সব সংঘাত থেকে আর একটি নতুনতর সংঘাতের আবেগে সে নিজেকে প্ৰস্তৃত করেছে। বললাম, না। কিছু না । চলে ওঠা যাক । --তাই বেশ । আমার এখন ঘুম পাচ্ছে ! -এই সাঁঝবেলায় ? -খুব ক্লান্ত লাগছে মামুন ! আমরা উঠে পড়ে রিকশা ধরলাম। আকাশে চাঁদ উঠল । পুবদিগন্তে একখণ্ড মেঘ উকি দিচ্ছে। আশ্বিন ফুরিয়ে আসছে। কেমন একটা ক্ষ্যাপা হওয়া নামছে আকাশ থেকে। ঝড় উঠবে বোধ হয়। অধির বাদলার পূবাভাস পাচ্ছি। একটি ঘনঘোর বাদলার রাতে রাবেয়া এসেছিল । রাবেয়া চলে যাবে । এক সপ্তাহ বাদে আমি একলা থাকিব আমার এই শহুরে বাসবাড়িতে । তার আগে অধির প্রলয়ে ছেয়ে যাবে প্রকৃতি আর মানুষ । আচ্ছন্ন এই জগতের বুকে আমি আঁধির আকাশে শুনতে পাব আমারই বুকের তীক্ষ তীব্ৰ বোবা আর্তনাদ । ঘুরে ঘুরে ঘূণীর উল্লাসে এক নিরাকুল আবর্তে তোলপাড় করবে দিশাহীন একটি প্রেম। যে প্রেমের বৈধতা অবৈধতার কোনো সীমারেখা আমি নিরূপণ করতে পারিনি । সন্ধ্যার পর । মেঘ ডেকে উঠল । মাতাল হওয়া লেগে দরজার শেকল নাড়া খেল । ঘর অন্ধকার করে বিদ্যুৎ চলে গেল । মোমালোকে সাজিয়ে তোলা হলো রাত্রির অধিবেষ্টিত গৃহখানি। প্রকৃতি রোধে ফুলে ফেপে আছাড় খাচ্ছে নিয়ত । কী সব ভাঙছে। টানা বিস্কুল গোপ্তানিতে উচ্চকিত করছে তাবৎ বিশ্ব । রাবেয়ার চোখে সুমা। পরনে রূপ ঠিকরে তোলা পোশাক । খাওয়া দাওয়া হােটেলে সাঙ্গ করে এসেছি। রাবেয়ার হাতে পান। রাবেয়া এগিয়ে এল। বিছানায় ছড়ানো àd