প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার হাঁটুর বয়েসী । আমি যেন একটা ফেউ । পেছনে লাগে মাস্টার অন্দি । হাউ হাউ ক’রে কেঁদে ফেলে সুখবাস । সুখবাসেব গায়ে হাত বুলিয়ে দাদী বলে—শাদী কর বাছা ৷ ধৰ্ম্মে মতি হবে । সেকথা কানো গেল না সুখৰ্ব্বাসেব । হঠাৎ ক’বে বলে উঠিল---আচ্ছা দাদী ! মেয়েমানুষের বুকেও তো চুল থাকে না । দাদী মান হেসে জবাব করল-তারা যে মাযার জিনিস ধন, মায়াবতী । সিমার যে পুরুষ । একটু দম ফেলে দাদী ফের বলল-বাউকে ভালোবাসলে খুদা তোর বুকে দযামান্য দিবে । তুই সিমার, সেডা ভাবি মিছে কথা সুখবাস ! সুখবাস দাদীর কোলে মুখ গুজে দিল । কাঁদতে কাঁদতে বলল-আমাকে তুই মুসলমান ক’রে দে দাদী ! বড় কষ্ট দাদী । খুব কষ্ট আমার ! নামাজ শিক্ষা শুরু হল সূখবাসেব । মক্তব মাদ্রাসা যেতে শুরু করল । ভালো মতন মুখস্ত হয় না । খানিক মুখে আসে তো বাকি ভাগ পেটে থেকে যায় । আগায় পড়ে তো গোড়া ভুলে যায় । একদিন সে লক্ষ করল, ইসকুলের ফেলমারা কমবুদ্ধির ছেলেগুলো সব একে একে মক্তব মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে যাচ্ছে । মাথা-অলারা সহজে মক্তব-মুখো হয় না । ভালো মাথা দু’একটি যে না থাকে তা নয়। খুব গরিব বলে হাইস্কুল যেতে পারেনি । তারপর আস্তে আস্তে কোরান হাদীস ভালোবেসে আপনােকউম (গোষ্ঠি বা সম্প্রদায়)-এর মুখ উজালা করে ! তখন কারো কারো চোখে মুখে মুরের আলো পাকপবিত্র ঢেউ তুলে মানুষকে ফেরেস্তার মতন দামী মানুষ ক’রে দেয় । সেই শোভা দেখলে মনে হয়, আবে জমজমে গোছল হয়ে গেল ! সত্যিই হয় । তাহের সাহেব কারী । কোরান খুব সুন্দর ক'রে সুরে পড়ল । তাঁকে গায়ের জামা খুলে সুখবাস দেখালে-দেখুন, কারী সাহেব, আমি সিমার ? বুলেন ? সবাই মিথুক কিনা বুলেন ? প্ৰাণ-খোলা হাসি হাসেন কারী । তারপর বলেন-বুকখানা সিমারের মতন বটে, মুখখানা তো নয় । হায় বাপ ! আজিও ফাতেহা সুরা মুখস্ত হল না তোর ! তারপর কেমন রহস্য ক’রে কানের কাছে মুখ এনে সুখবাসকে বলেন-কে তুমি বটে ! আই ডোন্ট নো । হাঃ হাঃ হাঃ ! কারীর দু’একটি চমৎকার ইংরেজি বলার স্বভাব আছে। সুখবাস বুঝল, মুসলিম দুনিয়ায় সে যে কে, সেই ধন্দের সাফ জবাব কেউ দেবে না । কারী আরো দুদিন বাদে বললেন-মক্তবে দারুণ রাজনীতি চলছে সুখবাস । দেশে লোক দুভাগ হয়ে গিয়েছে। ভেরি কমপ্লিকেটেড অবস্থা । তুই কোন পক্ষে Σ. Σ