পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০০
সিরাজদ্দৌল্লা।

যৌবনোন্মত্ত সিরাজদ্দৌলা সে কথা প্রায়ই স্বীকার করিতেন না। আলিবর্দ্দী সেই সকল কথা স্মরণ করিয়াই সিরাজদ্দৌলাকে লিখিয়াছিলেন যে, 'যাঁঁহারা সংসার-সংগ্রামে স্নেহের অত্যাচার সহ্য করেন, তাঁহারাই যথার্থ বীরপুরুষ।'

 সেই স্নেহপরায়ণ মাতামহ যখন চিরদিনের মত উদরীরোগে শয্যাশায়ী হইয়া পড়িলেন, যখন স্বার্থসাধনের জন্য ষড়যন্ত্রনিপুণ রাজবল্লভ আলিবর্দ্দীর সিংহাসনে নওয়াজে মোহম্মদকে বসাইয়া দিয়া সিরাজদ্দৌলার সকল অভিমান চূর্ণ করিবার আয়োজন করিতে লাগিলেন, তখন সিরাজদ্দৌলাও বুঝিলেন যে, আলিবর্দ্দীই তাহার একমাত্র অকৃত্রিম সুহৃৎ, এবং নিরাশ্রয়ের আশ্রয়স্থল! এই সময় হইতে সিরাজের সে দুর্দমনীয় হৃদয়বেগ ক্রমেই অবসন্ন হইয়া আসিতে লাগিল, প্রমোদকোলাহল শান্তিলাভ করিল, পার্শ্বচরদিগের পাশবনৃত্য তিরোহিত হইল, হিরাঝিলের প্রমোদকক্ষের মদিনোৎসাহিত অট্টহাস্য নীরব হইয়া পড়িল, সহসা তানলয়-পরিপুরিত প্রমোদসঙ্গীত অর্ধপথে স্তম্ভিত হইয়া কণ্ঠরোধ করিল!—সিরাজদ্দৌলা প্রতিনিয়ত মাতামহের রুগ্ন-শয্যাপার্শ্বে উপবেশন করিয়া, ভবিষ্যতের শাসননীতি এবং কাৰ্যপদ্ধতির উপদেশ গ্রহণ করিতে আরম্ভ করিলেন।

 মহারাষ্ট্রীয়দিগের সঙ্গে সন্ধিসংস্থাপন করায়, বর্গীর হাঙ্গামা চিরদিনের মত শান্তিলাভ করিয়াছিল; কিন্তু, উড়িষ্যা প্রদেশ চিরদিনের মতই নবাবের শাসন-বহির্ভূত হইয়া গিয়াছিল। পূর্ণিয়া প্রদেশে সাইয়েদ আহমদ রাজত্ব করিতেছিলেন,—সে দেশে সিরাজের হিতাকাঙ্ক্ষী কোথায়? ঢাকা রাজবল্লভের করতলগত, সেখানেই বা কে সিরাজদ্দৌলার স্বপক্ষে দাঁড়াইতে সাহস করিবে? বিহার প্রদেশের কিয়দংশ