পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১১৯
আলিবর্দ্দীর অন্তিম উপদেশ।

 “হোসেন কুলী খাঁর বিদ্যাবুদ্ধি এবং খ্যাতি প্রতিপত্তি ছিল। শওকতজঙ্গের প্রতি তাহার ঐকান্তিক অনুরাগ জন্মিয়াছিল। আজ হোসেনকুলী জীবিত থাকিলে তোমার পথ কণ্টকশূন্য হইত না। সে হোসেনকুলী আর নাই।

 “দেওয়ান মাণিকচাঁদ তোমার প্রবল শক্ত হইয়া উঠিত। সেইজন্য আমি তাহাকে রাজপ্রসাদ দানে পরিতুষ্ট করিয়া রাখিয়াছি। .

 “এখন আর কি বলিব? আমার শেষ উপদেশ শ্রবণ কর। ইউনোপীয় বণিকদিগের কিরূপ শক্তিবৃদ্ধি হইতেছে, তাহার প্রতি সর্বদাই তীক্ষ্ণদৃষ্টি রাখিও। তাহারাই তোমার একমাত্র আশঙ্কার স্থল।

 “পরমেশ্বর আমার এই দীর্ঘজীবনকে আরও কিছুদিন পৃথিবীতে জীবিত রাখিলে, আমিই তোমার এ আশঙ্কা নির্ম্মূল করিয়া দিতাম। কিন্তু তাহা হইল না। এ কার্য্য এখন তোমাকেই একাকী সাধন করিতে হইবে।

 “ইহারা তেলেঙ্গা প্রদেশের যুদ্ধ ব্যাপারে লিপ্ত হইয়া যেরূপ কুটিলনীতির পরিচয় দিয়াছে, তাহা দেখিয়া তোমাকে সর্বদা সতর্ক থাকিতে হইবে। ইহারা দেশের লোকের গৃহবিবাদের উপলক্ষ করিয়া সে দেশ আপনাদের মধ্যে বটিয়া লইয়া প্রজাদিগের যথাসর্বস্ব লুটিয়া লইয়াছে। ‘

 “কিন্তু সমুদায় ইউরোপীয় বণিকদিগকেই একসঙ্গে পদানত করিবার চেষ্টা করিও না। ইংরাজদিগেরই সমধিক ক্ষমতাবৃদ্ধি হইয়াছে। সে দিন তাহার আসিয়া দেশ জয় করিয়া আসিয়াছে;—তাহাদিগকেই সর্বাগ্রে দমন করি।